শাহেদ মিজান, সিবিএন:

সকল জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উখিয়ার দুই ক্যাম্পের দুইজন পুরুষের ‘পজেটিভ’ ধরা পড়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনেকের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও আজই প্রথম একদিনে দুইজন রোহিঙ্গার করোনা ধরা পড়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ শুরু থেকে শুধু বাংলাদেশ নয়; খোদ জাতী সংঘ পর্যন্ত বেশ আতঙ্কের কথা জানিয়ে আসছে। কেননা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ হলে তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশ প্রবল। সেই ব্যাপক সংক্রমণের প্রভাব কক্সবাজারের স্থানীয়দের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা ছিলো। অবশেষে করোনা আক্রমণের বহুদিন পর হলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা ঢুকে পড়লো। এই নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিও সংস্থা এবং স্থানীয়রাও বেশ উদ্বিগ্ন।

গণ সংক্রমণের আশঙ্কায় শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না! তবে এই রোহিঙ্গা কিভাবে করোনা সংক্রমিত হলো তা নিয়ে এখন বেশ আলোচনা চলছে। কেননা রোহিঙ্গা নির্দিষ্ট জায়গায় স্থিত থাকায় রোহিঙ্গা সংক্রমণ হওয়ার কথা না! তবে কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা!

এদিকে শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিলো, ক্যাম্পে নিয়োজিত এনজিও কর্মীদের কাছ থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণের। দুই রোহিঙ্গার করোনা ধরা পড়ার পর এই ‘এনজিও সংক্রমণ’ বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। কেননা ইতোমধ্যে ক্যাম্পে কর্মরত কয়েকজন এনজিও কর্মীর করোনা ধরা পড়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের কারণ হিসেবে এনজিও কর্মীই ‘কারণ’ হিসেবে উঠে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনের শুরুতে জেলার বাইরের বহু এনজিও কর্মীর দেশের বাড়িতে চলে গিয়েছিলো। ছুটি শেষ বা নির্দিষ্ট সময় পর নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও গোপনে বহু এনজিও কর্মী কক্সবাজার এসেছেন এবং ক্যাম্পে গিয়ে কাজ করেছেন এবং এখনো করছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের করোনাও ধরা পড়েছে। তাই অন্য কারণকে ছাপিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রণের জন্য এনজিও কর্মীদেরই ‘দায়ী’ মনে করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরআরআরসি অফিসের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু মোহাম্মদ তোহা জানান, এনজিও কর্মী থেকে রোহিঙ্গারা সংক্রমিত হয়েছে সেটার কোনো যুক্তি পাচ্ছি না। কেননা বহু এনজিও কর্মীর জেলার বাইর হিস্ট্রি থাকলেও তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় কোয়ারাইন্টাইন করেই ক্যাম্পে ঢুকানো হয়েছে। তবে আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গারও ক্যাম্প থেকে বাইরের বের হওয়ার ‘হিস্ট্রি’ পাওয়া যায়নি বলে জানান ডা. আবু মোহাম্মদ তোহা।

তিনি আরো জানান, ইতো মধ্যে উখিয়ার বেশ কয়েকজন স্থানীয় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গার ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার হিস্ট্রি না থাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকেও সংক্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, কিভাবে এই দুই রোহিঙ্গা করোনা সংক্রমিত হলো তার কারণ নিয়ে বেশ ধোয়াশা লাগছে। কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার লোকজন। আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গার সাম্প্রতিক চলাফেরার চালচিত্র অনুসন্ধান করে তাদের করোনা সংক্রমণের কারণ জানতে কাজ শুরু করেছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •