মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু,নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রশাসন করোনা পরিস্থিতি সার্বিক তদারকি ও প্রচেষ্টায় মহান আল্লাহর রহমতে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ। তিনি ইউএনও,সেনা বাহিনী, বিজিবি, এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা মূলক নিয়মিত প্রচার-প্রচারনায় আজ করোনা যুদ্ধে সফলতার পথে। এই সফলতার জন্য এবং নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রমে ৫ জন রোগী করোনা যুদ্ধে জয় লাভ করায় হাসপাতল কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে সাধুবাদ জানান তিনি ও এলাকাবাসী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় গত ১৬ এপ্রিল বান্দরবান জেলায় প্রথম করোনা রোগী হিসাবে শনাক্ত হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনার পাড়া গ্রামের আবু ছিদ্দিক। তিনি হাসপাতালের আইসোলেশনে ১০ দিন চিকিৎসা গ্রহনের পর ২৬ এপ্রিল সুস্থ হলে থাকে উপজেলা স্বাস্থ্য টিমের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর পর ২৭ এপ্রিল ২য় করোনা রোগী হিসাবে শনাক্ত হন সদর ইউনিয়নের কম্বনিয়া গ্রামের জান্নাতুল হাবিবা।

তাকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্বাস্থ্য ও মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নিয়ে আসেন হাসপাতালের আইসোলেশনে। হাবিবা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার সংস্পর্শে আসে আরো ৩ জন। তারা হাবিবার নিকট আত্মীয় হন। তাদেরও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর মাধ্যমে ঐ তিন করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালের আইসোলেশনে।

সেখানে ১০ দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর গত ৮ মে জান্নাতুল হাবিবা সুস্থ হলে তাকেও হাসপাতালের ছাড়পত্র দিয়ে প্রশাসনের নির্দেশে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সর্ব শেষ ১৩ মে বাকি তিন করোনা রোগী আলম আরা,শহিদা আক্তার, শিশু রবিউল হাসান ছাড়পত্র পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে থেকে-১১দিন দির পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এই নিয়ে আপাতত করোনা মুক্ত হল নাইক্ষ্যংছড়ি।

উল্লেখ্য গত ২৬ এপ্রিল করোনা উপসর্গ দেখা দিলে জান্নাতুল হাবিবা নিজেই নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালের আউটডোরে শরণাপন্ন হয়ে কর্মরত চিকিৎসককে জ্বর ও সর্দিকাশি কথা জানালে চিকিৎসক নমুনা সংগ্রহ করে।

সেই নমুনা কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পাঠানো হয়।
এরপর ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে তার করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই সদর ইউনিয়নের কম্বনিয়া গ্রাম এলাকার ১৭ ঘর-বাড়ী লকডাউন করে দেয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন। পরদিন দুপুর থেকে আক্রান্ত জান্নাতুল হাবিবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে নিয়ে আসা হয়। সাথে ছিল তার ২ বছরের শিশু সন্তান হাবিবুর রহমানও। এ ঘটনার পরে প্রশাসনের নির্দেশে জান্নাতুল হাবিবার পরিবারের ২০ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তাদের কাছ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে (আইইসিডিআর)পাঠানো হয়। সেখানে তাদের একি পরিবারের শিশুসহ তিন জনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

৮ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায
নাইক্ষ্যংছড়িতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগী জান্নাতুল হাবিবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরপর দুইবার নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার পর তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাই জান্নাতুল হাবিবাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করে বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র দেয়া হয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাঃ এ জেড মোঃ ছলিম।

এছাড়া হাবিবার সংস্পর্শে আসা একই পরিবারের শিশু সন্তানসহ তিন জনকে চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা ভালো হয়। তাদের ও নিয়ম মত পরীক্ষা করার পর রির্পোট নেগেটিভ আসলে হাসপাতালের আইসোলেশন থেকে ১১ দিন পর বুধবার (১৩ মে) ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ীতে চলে যান। সেখানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে থাকবেন।

নানা অভিযোগের পর নাইক্ষ্যংছড়ির ৫ করোনা রোগী সুস্থ হয়ে এলাকায় ফিরে যাওয়ায় স্বস্থি বিরাজ করছে পুরো উপজেলার ৫ ইউনিয়নে। তাই এলাকাবাসীর মতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এখন আপাতত করোনা মুক্ত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •