-সিরাজুল কাদের

বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে মূহ্যমান ধরনীর বুকফাঁটা এবং নিরব আর্তচিৎকার যেন জীবন্ত আগ্নেয়গিরি জাপানের ফুজিয়ামা এবং ইটালীর ভিসুভিয়াস থেকে নির্গত স্ফুলিংগের ন্যায় লাভা মূখে ক্রমাগত অগ্ন্যুৎপাতের উদগীরন ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে পৃথিবীর ১৮৬ টি দেশে। আজ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিলে শামিল প্রায় ২ লক্ষ ৮৭ হাজারের উপর বনী আদম, আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪২ লক্ষ বসুন্ধরার শ্রেষ্ট জীব। টেকনোলজি,ইনভেনশন, ডিসকভারির এবং ডিজিটালাইজেশনের চরম উৎকর্ষতা আর সেই তথা কথিত এ্যসট্রনমিস্টদের এনালাইসিস সবই যেন এক আনুবীক্ষণীক অনুজীবের মরণ কামড়ে ধরাশায়ী এবং সে সাথে কুপোকাত হালের প্রতিথযশা বিজ্ঞানীরা। দুনিয়া কাঁপানো তাবৎ বিজ্ঞান গবেষণাগার গুলো এক অনুজীবের ভ্যাকসিন তৈরীর ক্ষেত্রে অসহায়ত্বের চরম দশাতে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। মাঝেমধ্য খবরের কাগজে চাউর হয় অমুক দেশ ভ্যাকসিন তৈরী করেছে এবং কালকে ক্লিনিক্যাল টেস্ট হবে । পরবর্তীতে দেখা দিল ফলাফল বাংলা বাগধারার গুড়েবালি। এদিকে আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রল হয় ভ্যাকসিন আবিস্কারের তুলনামূলক সময়ের বিশ্লেষন, যা দেখলে আমাদের মত আমজনতার চক্ষু চড়ক গাছ! কেননা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সময় ফর্দ যেন অর্ধ শতাব্দীর আশপাশেই কেন্দ্রীভূত। তখন “মরিতে চাহিনা আমি এই সুন্দর ভূবনে” টাইপের আকুতি ভরা লাইন হৃদয়ের অন্তকোণে মাতম তুলে এবং এই মাতমেই জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে করোনা মহামারীর চলমান মৃত্যুর মিছিলকে ভূলে যাওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। তারপরও আতংকগ্রস্ত মানব জাতি বাঁচার তরে কত ফন্দি- ফিকিরে এদিক-ওদিক হাতরাতে থাকে এবং যার যার মত ট্রাডিশনাল মেডিসিন অথবা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত ১০০% করোনা নিরাময়ী বিভিন্ন মশালা সমেত গরম পানির বাস্প নেওয়াতে ব্যস্ত! গত ডিসেম্বরের আগেও কেউ প্রেডিক্ট করতে পারেনি পৃথিবী ব্যাপী এক মহামারী এই ভাবে সব কিছুকে লন্ডভন্ড করে কালের কঠিন অক্ষে নিপতিত করবে। পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে এই পর্যন্ত সারা দুনিয়া ব্যাপী মহামারী, এই সর্বপ্রথম এবং কাউকে ছাড দেয়নি যার পরিক্রমামায় আজ হারামাইনের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, মুসলিম ব্রাদারীনরা তোয়াফ করতে পারছেনা, পোপের ভ্যাটিকান সিটিতে চলেছে রীতিমত মৃত্যুর দামামা, রোমান পোপের ক্যাথেড্রলগুলোও মরণ খরিদের টিকেটে পরিণত হয়েছে, গির্জাগুলো থেকে যে যার যার মত প্রাণ বাঁচানোর তরে ছেড়ে দে মা কান্দি বাঁচি অবস্থা। বৌদ্ধ মন্দিরগুলো আজ বিরানভুমিতে পরিণত কেউ এখন ফল পাকুড়ি নিয়ে মন্ক বা ভান্তেদের ওখানে যায়না পাছে না করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ে। হিন্দু মন্দিরগুলোর ঘন্টা বাঁজে কিন্ত ঠাকুর বা গুরুর কাছে আশির্বাদ নিতে বা দর্শনে কেউ যায়না। ইহুদিদের সিনাগগে এখন আর দুর-দুরান্ত থেকে মিছিল আকারে কেউ প্রার্থনা
করতে যাচ্ছেনা যার কারনে প্রার্থনার উচ্চ রব এখন উঠেনা। কিন্তু এখানে সবচাইতে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে এই মহামারীতে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আগে ধর্মের দিকে অবহেলা থাকলেও যারপরনাই আস্তিক নাস্তিক সব যার যার স্থান থেকে নিরবে নিভৃতে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনাতে মগ্ন! কিন্তু নিয়তির আজ করুন পরিণতি মহান স্রষ্টা এখন আর কারো কথা শোনেনা সকল ধর্মের জাতি গোষ্ঠীর প্রার্থনাতে মহান রব বড়ই বেজার..!স্রষ্টা কর্তৃক অদৃশ্যালোকে কেমন জানি হাওয়াতে বাণী প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এভাবেই:-
তোমরাতো তাদেরই স্বজন:
যারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ হীরা, মণি, মুক্তা, স্বর্ণ, এ্যামারেল্ড এবং তানজানাইট সহ মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের তীর্থভূমি আফ্রিকাকে গোত্র এবং গোষ্টীভিত্তিক দ্বন্ধ উসকে দিয়ে কাউকে বিদ্রাহী তৈরী করে আবার এই দলাদলির রেশ থেকে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়ে জনপদের পর জনপদকে উপচে পড়া লাশের বাগাড বানিয়েছে ।আর গৃহ যুদ্ধের দামামাতে বেশ কিছু সংখ্যক জনগোষ্ঠী জীবন রক্ষার্থে রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় প্রার্থী আর কিছু সংখ্যাক উদ্বাস্তুর বেশে দুনিয়া ব্যাপী জীবন জীবিকার জন্য হন্য হয়ে ঘুরে এবং দুনিয়া ব্যাপী শক্তিশালী লেবারের নামে নিজেদেরকে আধুনিক ক্রীতদাসে পরিণত করেছে। আর এই সুযোগে দুনিয়ার মোড়ল দেশগুলো মিলে সিন্ডিকেট করে আফ্রিকা উন্নয়নের নামে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো ডায়মন্ড, গোল্ড এবং তানজানাইট সহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদগুলোকে দেদারচে আহরন করে সম্পদের পাহাড় গড়ে এবং এর জটর থেকে নব্য পুঁজিবাদি শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটিয়েছে।অন্যদিকে সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষ কবলিত নারী শিশু এবং সাধারন মানুষের হাড্ডিসার কংকালরুপী ছবিগুলো পৃথিবীর মানবতাকে ক্ষতবিক্ষত করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়। এরাই পৃথিবীর নব্বই ভাগ মানুষের সম্পদকে কুক্ষিগত করে বৈশ্বিক বৈষম্য তৈরী করে এবং তাদের খোলনলচে মানবতা কখনো হাসে আবার কখনো কাঁদে আর এদের টেবিল টকে পুরো মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
তোমরা তাদেরই পরিজন:
যারা ক্ষমতার লিপ্সাকে চরিতার্থ করার জন্য সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, কাশ্মির এবং মিয়ানমারের আরকান সহ অনেক দেশে নেপথ্যে থেকে সমুদ্রের কিনারায় নিস্পাপ আইলান কুর্দীদের লাশ ভাসাই। আবার এর প্রেতাত্মারাই ইয়েমেনে বোমা বর্ষন করে নিষ্পাপ রহিমা, ফাতেমা, জয়নাব সহ নাম না জানা শিশুদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে। এই ইয়েমেনের পুষ্টিহীনতায় বা সিভিয়ার মেল নিউট্রিশনে ভোগা অস্থি কংকাল সার শিশুদের চেহারা দেখলে কলিজা মোচড় দিয়ে কষ্টের মহাপ্রপাত থেকে উৎসরিত কান্নার রোল কোন ভাবেই থামেনা.! এরই ধারাবাহিককতায় অবরুদ্ধ করেছে ইজ্জত আবরোতে পরিপূর্ণ কাশ্মিরের মা বোনদের, এখানে গর্ভবতী মা বোনদের চিকিৎসা নিতে না পারা এবং খাদ্য সংকটের করালগ্রাসে পতিত সকলের আহাজারী সৃষ্টি কর্তার আরশ কাঁপিয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনে ছোট শিশুদের সামনে তাদের মাএবং বোনকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মত ভারী অস্ত্রের বাট দিয়ে আঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে ফেলে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পরবর্তীতেঐ শিশুদের সামনে গুলি করে বুক ঝাঁঝরা করে নিথর দেহ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া এই উল্লেখিত হৃদয় বিদারক ঘটনাতো পুরো মানবতার কবর রচিত করেছে।
তোমরা তাদেরই স্বগোত্রীয়:
যারা সস্তা মজুরীতে চীন, ভারত, ইসরায়েলএবং রাশিয়ার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য শিল্প এলাকা তৈরী, সে সাথে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিশ্রুতিশীল শিল্প গার্মেন্টস খাতকে ধ্বংস করার গোপন ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্টের আদলে আরাকানের রোহিংগা জনগোষ্ঠির উপর ক্রাকডাউন চালিয়ে গণ হত্যার মিছিলে উদোম নৃত্যে ঝংকার তুলে। মানবতা বিরুদ্ধ সকল অত্যাচারের সংজ্ঞাও এখানে পর্যুদস্ত। এই বিতাড়িত রোহিংগাদেরকে আবার বাংলাদেশের সীমান্ত ঠেলে দিয়ে কক্সবাজারকে উদ্বাস্তদের নগরী বানায় ফলে এই মানবতার রেড জোনে পডে রোহিংগাদের আকাম-কুকামের সিরিজ ধর্মী অনৈতিক রাষ্ট্র বিরুধী ক্রিয়া-কলাপে নাকাল হয় কক্সবাজার বাসী, মানবতার ভারে আজ এই জনপদ বড়ই অসহায়। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে রোহিংগা যেন অত্র জনপদে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া।
হায়রে ক্ষমতার রাজাধিরাজরা, তোমরা কেউ ধর্ম মান আবার কেউ প্রকৃতিকে পুজা কর যতই যা কিছু বল যাদের উপর ষড়যন্ত্র,অত্যাচার, নির্যাতন এবং নিপীড়নের স্টীম রোলার চালিয়ে মানবতার পরিচ্ছদকে ব্যবচ্ছেদ করেছ তারাওতো স্রষ্টার বা প্রকৃতির সন্তান। আর স্রষ্টা এবং প্রকৃতির প্রতিশোধ সম্পর্কেতো তোমরা পূর্ব থেকে ওয়াকিফহাল। তারপরও অন্য যারা এই নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছে তাদেরকে তোমরা সাপোর্ট করেছ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাই আজ তোমাদের শিক্ষা দিতে এই মহামারী। স্রষ্টাই মৌন বাণী শুনাচ্ছেন, “তোমাদের প্রার্থনা আজ স্বার্থ, মোহ, লোভ-লালসার দুষ্টু চক্রে আবর্তিত তাই এই ফরমালিন মিশ্রিত প্রার্থনা আমার অবিনশ্বর জগতে ধোপেটিকবেনা। বরং সময় আছে শুধরে যাও, অনেক হয়েছে এবং সীমা লংঘন করনা। অন্যথায় আরো বড় দুর্ভোগের জন্য প্রস্তুত হও।”
প্রকৃতির প্রতি নির্বিচারে নিধনযজ্ঞ, বৈষয়িক লোভ, ভোগবাদিতা, ক্ষমতার আস্ফালন, সার্বিক বৈষম্য এবং সর্বজয়ী হওয়ার স্রষ্টা বিরুধী কর্মকান্ড যখন মাত্রা ছাডিয়ে গেছে তখনতো লাগাম টেনে ধরা কর্তব্যে পরিণত হয় ফলশ্রুতিতে স্রষ্টার লাগাম এক অনুজীবে ভর করে করোনা ঢুকল সৌদী রাজপ্রাসাদে!
কিভাবে?ওখানে তো জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই! নেই কোন গণজমায়েত,তাহলে!
জার্মান চ্যান্সেলর এ্যানজেলা মার্কেল কিভাবে করোনা পজেটিভ?বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কিভাবে করোনা আক্রান্ত ?বার্মিংহাম থেকে ডাউনিং স্ট্রিটে কেনো করোনার আনাগোনা?
স্পেনের প্রিন্সেস মারিয়া কেনো মারা যায় করোনায়?
ইসরায়েলের মন্ত্রী কেনো করোনা রোগী?
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী কেনো করোনা শয্যায়?
মার্কিন রণতরী থিওডোর রুজভেল্টে কেনো করোনার তান্ডব? ওরা কি গণজমায়েতে গিয়েছিল?
বস্তুপূজারীর দল! বল, স্রষ্টার হুকুমেই তাদের হয়েছে। যে কারোই হতে পারে।তিনি যা চান তাই হয় বাঁধা দেওয়ার বা বাঁধা হওয়ার কেউ নেই, কিছু নেই।
নিঃশর্তে নত হও তার সকাশে,
লুটিয়ে পড় তার পদতলে,
পালাও তার দিকেই।

বর্তমানে করোনা সেই ১৯২৯ থেকে ১৯৩৯ সংগঠিত হওয়া গ্রেট ডিপ্রেশনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের কু প্রভাব মহান অর্থনৈতিক সংকট গ্রেট ডিপ্রেশন এর মত হতে পারে।
করোনা ভাইরাস সংকট আমাদের প্রজন্মের জন্য ২০০৭ থেকে ২০০৯ ইংরেজীতে সংগঠিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চেয়ে ব্যাপক এবং মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। আপাত:দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব গ্রেট ডিপ্রেশনে নিয়ে যাবে, এই ক্ষেত্রে গ্রেট ডিপ্রেশন সম্পর্কে কিছু তথ্য: গ্রেট ডিপ্রেশন সংগঠিত হয়েছিল ১৯২৯ হতে ১৯৩৯ সালে সে সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় ধ্বংসাত্মক আকারে ধ্বসে পড়েছিল। এই গ্রেট ডিপ্রেশনের প্রভাবে গণহারে কর্মহীন এবং চাকুরীহারা মানুষের গণ মিছিল পরিলক্ষিত হয়, কলকারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যায়। জীবন জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানসিক দু:শ্চিন্তা দেখা দেয় ক্রমান্বয়ে তা বিভিন্ন মানসিক রোগ হিসেবে Post traumatic stress Disorder বা PTSD তে রুপ ধারন করে।

করোনা ভাইরাসের মহামারী মারাত্মক এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, অসংখ্য বেকারত্ব ও বিভিন্ন রানিং কোম্পানী বন্ধের মত অচলায়তন পরিবেশ সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক বিষণ্নতা তৈরী করতে পারে। বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগে রোগীক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কেননা করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চোখের সামনে কঠিন যণ্ত্রনাদায়ক এবং বিভীষিকাময় মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছে। তাছাড়া স্বাস্হ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরাও হাসপাতাল মর্গে উপচে পড়া লাশের সারি দেখেছে, অন্যদিকে এক্সকেভেটারের মাধ্যমে গণ কবর খুঁড়ে তাতে ক্রেন দিয়ে হাজারো মানুষকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। স্বজনরা পারেনি তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা দাফন কাফনে শরিক হতে, যার কারনে এই চলমান গগনবিদারী মৃত্যুকে বিভিন্ন অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ করা জীবন্ত স্বাক্ষীগুলো বড় ধরনের মেন্টাল ট্রমায় আক্রান্ত হয়েছে বা হবে যা পর্যায়ক্রমে এই জনগোষ্ঠিকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগের দিকে ধাবিত করবে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে হালের জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাদপীঠ খোদ আমেরিকাতে প্রায় একলক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটতে পারে এই করোনা মহামারীতে যা ভিয়েতনাম যুদ্ধে হতাহত আমেরিকানদের ডাবলের ছেয়ে বেশী।

১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালে ও এর চেয়ে বড় ধরনের মহামারী সংগঠিত হয়েছিল যা স্প্যানিশ ফ্লু নামে পরিচিত। এই স্প্যানিশ ফ্লু’তে পাঁচশত মিলিয়ন পর্যন্ত লোক আক্রান্ত হয়েছিল যা ছিল ঐ সময়ের বিশ্বের মোট জনসংখ্যার তিনভাগের এক ভাগ। এই ফ্লু’তে সারা বিশ্বে প্রায় পণ্ছাশ মিলিয়ন মানুষের প্রাণহানী ঘটে যার মধ্যে খোদ আমেরিকার ছিল ছয় লক্ষ পঁচাত্তর হাজার। ঐ সময়ে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল একশত পণ্ছাশ কোটি আজকে যদি আমরা সময়ের বিবর্তনিক তারতম্যের ফিগার বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যায়, আজকে বিশ্বের জন সংখ্যা প্রায় সাতশত আশি কোটি আর এর তিনভাগের এক ভাগ পারসেন্টেজ বের করলে দৃশ্যমান হয় প্রায় দুইশত ষাট কোটি মানুষ আক্রান্ত আর মৃত্যুর পরিমান দুই কোটি পণ্ছাশ লক্ষ। খোদা না করুক বৈশ্বিক অসচেতনতা বা কান্ডজ্ঞানহীনতার কারনে যদি করোনা ভাইরাস স্প্যানিশ ফ্লু’র রুপ ধারন করে তাহলে দুইশত ষাট কোটি আক্রান্ত সহ দুই কোটি পণ্ছাশ লক্ষ মানুষের প্রাণহানীর মত বিভীষিকাময়, বিদঘুটে এবং এক বিরুপ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে!

United Nation Conference on trade and Development (UNCTAD) বলেছে করোনা মহামারীতে অর্থনৈতিক স্লথগতির কারনে ২০২০ বৈশ্বিক অর্থ বছরে একহাজার বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দেবে যার কু প্রভাবে বৈশ্বিক জিডিপি’র মাত্রা কমিয়ে আসবে। উল্লেখ্য ২০০৭-২০০৯ বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের কারনে আমেরিকাতে চার হাজার ছয়শত বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সংকট দেখা দেয়; যা পূর্ববর্তী সময়ের জিডিপির ১৫%।
গ্রেটডিপ্রেশনের সময় ২৫% বেকারত্বের পরিমান বেডে যায়। শিল্প সমৃদ্ধ দেশে প্রতি চারজনের একজন বেকার হয়ে পড়ে, আমেরিকাতে প্রায় অর্ধেকের মত ব্যাংকব্যবস্থা ভেংগে পড়ে, বিশ হাজার মত কোম্পানী দেউলিয়া হয়ে যায় এবং তেইশ হাজার মত লোক আত্মহত্যা করে। বর্তমান করোনা মহামারী বিশ্বকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দিলে গ্রেট ডিপ্রেশননের মত ব্যবসা- বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষ চাকরী হারা হবে। অধিকন্তু এই মহামারী শিল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করবে যেখানে গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় শুধু শিল্পোন্নত দেশে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকট তৈরী করেছিল। ILO বলছে এই মহামারী সংকটের কারনে এই বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ৬.৭% কাজের সময় অপনোদন করবে যা ১৯৫ মিলিয়ন কর্মজীবি মানুষের কাজের সময়ের সমান। এটা অলরেডি আমেরিকাতে শুরু হয়ে গেছে। আমেরিকা শ্রম মন্ত্রনালয়ের তথ্যানুসারে গত এপ্রিলের ১১ তারিখের শেষ পর্যন্ত সময়ে চার সপ্তাহের জন্য প্রায় ২২ মিলিয়ন কর্মজীবি মানুষ কর্মহীন ভাতার দাবী করেছে। সাম্প্রতিক তথ্যের আলোকে বলা যায় ২০০৮ এর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সংকটকালীন সময়ে ২৬ লক্ষ কর্মজীবি মানুষের কর্মহীন হওয়ার রেকর্ড আমেরিকার শ্রম মন্ত্রনালয়ে তালিকভূক্ত করা হয় যা ১৯৪৫ পরবর্তী কর্মজীবি মানুষের সর্বোচ্চ চাকরী হারার রেকর্ড।
বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক সংকট বা মন্দার সময় আত্মহত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, কলহ, বিবাদ এবং খুন-খারাবী বেডে যায়। করোনা মহামারী উদ্ভুত লক ডাউন এবং আইসোলেশনের কারনেও একই পরিবেশের বিস্তার বা পূণরাবৃত্তি ঘটে এক বিশৃংখল পরিবেশ বিরাজ করবে বলে শংকিত এবং রীতিমত উদ্বিগ্ন বিশ্বের সকল সচেতন মহল। এখন তা বিভিন্ন আলোচক এবং বৈশ্বিক থিংকট্যাংকারদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিত্তশালী দেশ জার্মান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান,যুক্তরাজ্য এবং ডেনমার্ক সহআরো বেশ কিছু দেশ তাদের দেশবাসীর জন্য এইড প্রোগ্রামের আওতায় ব্যাপক আকারের এইড প্যাকেজ ডিক্লেয়ার করেছে যা ২০০৮ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় নেয়া এইড প্রোগ্রামের চেয়ে ব্যাপক এবং বিশাল বাজেটের। এখানে যারা করোনা মহামারীর লকডাউনের কারনে বেকারত্বে ভোগেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেনি, জবে যেতে পারেনি তাদের সকলকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে।
জার্মান বড় কোম্পানীদের জন্য আনলিমিটেড লোন ডিক্লেয়ার করেছে, যারা কাজে যেতে পারেনাই বা কাজ করতে পারেনাই তাদের বেতনের ৬০% প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আমেরিকা প্রায় দুই হাজার বিলিয়ন ডলারের রেসকিউ প্যাকেজ ডিক্লেয়ার করেছে; যেখানে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ডাইরেক্ট ক্যাশ পেমেন্ট করা হবে।
এইদিকে জাপান সরকার এদেশে বসবাসকারী সকল রেসিডেন্ট দেশী এবং বিদেশীদের জন্য দুইশত চল্লিশ বিলিয়ন ইয়েনের ক্যাশ সাপোর্ট প্রোগ্রাম ডিক্লেয়ার করেছে, এছাড়া ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং কোম্পানী করোনাত্তোর তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড সঠিকভাবেই পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফিনানশিয়াল সাপোর্টের ব্যবস্থা করা হবে বলে জাপানের বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে খবর ছাপানো হয়েছে। সেই সাথে প্রধান মন্ত্রী শিনজো আবে জাপানের বিভিন্ন টেকনোলজি ফার্ম এবং স্বাস্হ্য সেবায় নিয়োজিত জনগনকে আহবান করেছে যুত্সই টেকনোলজি ডেভেলপ করে মহামারীর সময়ও কিভাবে দৈনন্দিন কাজ-কর্ম, ব্যাবসা-বাণিজ্য চালিয়ে নেয়া যায় সেজন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে। যেহেতু জাপানে আছি সেহেতু এখানকার চলমান আপডেট একটু শেয়ার না করলেই নই। আজ ১২ই মে ২০২০ তারিখ পর্যন্ত জাপানে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫৭৩৮ জন, যার মধ্যে সুস্থ হয় ৮৭৩৩ জন যা মোট আক্রান্তের ৫৫% এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫৩ যা মোট আক্রান্তের ৪% তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এখানে লক ডাউন ঘোষনা করেনাই কিন্তু স্টেট অফ ইমারজেন্সী ঘোষনা করেছে আর এই ইমারজেন্সীর আদলে যা যা করা বা না করার ঘোষনা আসছে তা সকলেই যথাযথভাবে মেনে চলছে। সুতরাং জাপানী জাতীর সচেতনতা, আইন ও সরকারী নিয়মনীতির প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাপোষন এবং মেনে চলার যে ম্যানার তা দেখে সত্যিই অভিভূত। অন্যদিকে আমাদের দেশে লাঠি পেঠা করেও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নিয়ম মানানো যায়না, আরো কত কি যার জন্য সিরিজ বর্ণনার দরকার।

এই উপরোল্লেখিত আর্থিক সহযোগিতা হয়ত করোনা উদ্ভূত সংকট সাময়িক ভাবে মোকাবিলা করা যাবে। কিন্তু এই আর্থিক প্রণোদনা শেষ হতে না হতেই করোনা মহামারীর বিরুপ প্রভাবে মাত্রাতিরিক্ত আকারে বিভিন্ন সামাজিক সংকট দেখা দেবে যার কারনে মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং বিভিন্ন অনাচারসহ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ ব্যাধি ছডিয়ে পড়বে যা নিয়ণ্ত্রন দু:সাধ্য হয়ে পড়বে।
এখানে উল্লেখ্য যে গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় উগ্র জাতীয়তাবাদ স্থান করে নিয়েছিল যার প্রত্যক্ষ কারনে আর্থিক, সামাজিক এবং মানসিক বিষন্নতা স্থান করে নেয় যা পর্যায়ক্রমে বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা ভাইরাসের এই মহামারীতেও বিশ্বব্যাপী উগ্র জাতীয়তাবাদ, বর্ণবৈষম্য, (চাইনিজ রোগ বা চাইনীজ দেখলে দুরে সরা ইত্যাদি)বিদেশী আতংক এবং স্বেচ্ছাচারী সরকারের আবির্ভাব ঘটবে। অবশ্য, এগুলো করোনা মহামারীর অনেক বছর আগে থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলছে যার সূত্র ধরে ২০০৭-২০০৮ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে পরিণতিতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। যদি এই জাতীয় সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব অনিষ্টকারী অনাচার এবং অবিচারের পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে সামাজিক -অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে মহামারী পরবর্তী অবস্থা আরো জটিলতম আকার ধারন করবে।
যদিও এই মহামারীতে কিছু দেশ সংহতি প্রদর্শন করেছে এবং এক দেশ আরেকদেশকে সহযোগিতার হাত বাড়ি দিয়েছে। যেমন কিউবা ইতালীতে মেডিকেল টীম পাঠিয়েছে, চীন পোল্যান্ডে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট পাঠিয়েছে
করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে হয়তো দেখা যাবে যে কিছু দেশ তাদের দেশকে সংরক্ষিত দূর্গে পরিণত করবে। বাহিরের দেশের লোকদেরকে ছাঁটাই; এরই মধ্যে রিফিউজি অথবা বিদেশীদেরকে অথবা বিদেশী কোম্পানীদেরকে বের করে দেবে।

তাই আমরা যারা প্রবাসে আছি তাদের জন্য করোনা মহামারী উত্তর পরিস্থিতি তেমন সুখকর হবেনা কেননা করোনার কারনে ভগ্ন অর্থনীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মূখীন হবে তৎমধ্যে চাকরী, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প প্রতিষ্টানগুলোতে এক মন্দা পরিবেশ বিরাজ করবে। যেহেতু চলমান ইনকামের একটি ফ্লু অতর্কিতভাবে বন্ধ হয়ে গেল যার জন্য পূর্ব কোন পরিকল্পনা করার সময় পাওয়া যায়নি যার কারনে কোম্পানীর সাথে কর্পোরেট ক্লায়েন্ট এবং প্রতিষ্টানগুলোর মধ্যে সমন্বয় হীনতা প্রকট আকার ধারন করবে এবং এগুলোকে নির্দিষ্ট ফ্রেমে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ সময় এবং অর্থের ব্যাপক যোগান দরকার আর এই জায়গাতে যখন সমন্বয়হীনতা বিরাজ করবে তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কোম্পানী এবং শিল্প প্রতিষ্টানে চাকরী থেকে ছাঁটাই শুরু হয়ে যাবে তবে প্রবাসীদের জন্য এটার পরিমান বেশী হবে এবং যা দেশে জাতীয় অর্থনৈতিক খাতের জন্য বড় এ্যালার্মিং। এই ক্ষেত্রে প্রবাসী ভাই বোনদের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। আর সরকারের উচিত হবে জরুরী ভিত্তিতে বিদেশে অবস্থিত কনস্যুলেট অফিসের কর্তাব্যক্তিদেরকে স্বক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সাথে নিয়মিত তদবির, লবিং এবং যোগাযোগ রক্ষা করে প্রবাসীদের জন্য যেন খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা।
করোনা পরবর্তী দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য যা করণীয় হতে পারে:
– রাষ্ট্রের সব শাখা-প্রশাখায় জন্ম নেওয়া দুর্বৃত্তায়ন শ্রেনীকে সমূলে উৎপাটন করে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের সমানুপাতিক বন্টন নিশ্চিত করন।
– আর দেশে খাদক শ্রেণীর পুঁজিপতি ব্যবসায়ীরা মহামারীর কারনে উদ্ভুত ঘাটতি পুরন করার জন্য ক্রেজি হয়ে পড়বে সেক্ষেত্রে তারা সমাজের নীতি বিবর্জিত দালাল, জোতদার এবং ফরিয়াদেরকে ব্যবহার করবে যাদের লাগামহীন দৌরাত্মায় নাকাল হবে আপামর জনতা। তাই এরা যেন সরকারী মনিটরিং সেলের দৃষ্টি এড়াতে না পারে সে দিকে তীক্ষ্ণ নজরদারী নিশ্চিত করতে হবে।
– যদি সম্ভব হয় মহামারীত্তোর পরিস্থিতিকে একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমে আনার জন্য পরিবার ভিত্তিতে অন্তত দুই মাসের জন্য নূন্যতম Pandemic Subsidy বা মহামারী ভাতার ব্যবস্থা করতে পারলে আশা করি এই সংকট থেকে কেটে উঠা যেতে পারে যা অলরেডি জাপান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে শুরু হয়ে গেছে।
– বর্তমানে বিশ্বে করোনা পরবর্তী পরিবেশ মোকাবিলা করার জন্য যা বেশী আলোচিত হচ্ছে তা হল মুদ্রার বিনিময়ের চেয়ে কৃষি সেক্টরে কম সুদে ঋন নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা
সবক্ষেত্র ইন্টার সেক্টরাল ইন্টারএ্যাকশন কার্যকর করে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, বিভিন্ন মিডিয়াতে “ দেশীয় পণ্য কিনে হয় ধন্য” এই স্লোগানের প্রমোশন বাডিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করি এই হোক সকলের অংগীকার।
তবে স্মর্তব্য এখন থেকে যারা বা যে দেশ বেশী এবং কার্যকরী পরিকল্পনা নিয়ে সব শিল্পে উৎপাদন নিশ্চিত করবে, তাদের জন্য অনেক বেশী অর্থনৈতিক সুযোগ এবং সমৃদ্ধির সম্ভাবনা হাতছানী দিয়ে ডাকছে। কথিত আছে আমরা বাংগালিরা নাকি সুযোগ সন্ধানী তাই অন্তত করোনা মহামারী পরবর্তী দেশের সমাজ এবং অর্থনীতিকে পূণর্ঘটনের জন্য একযোগে কাজ করে একটু সুযোগ সন্ধানী হওয়ার চেষ্টা করলে তো মনে হয় তেমন মন্দ হয়না…!!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •