শাহেদ মিজান, সিবিএন:

তিনি একজন করোনা রোগী। কয়েকদিন আগে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। নিয়ম মতে তাকে ডেডিকেটেড আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাকে রাখা হয় হোম আইসোলেশনে। প্রশাসনের নির্দেশ মতে নিজ বাড়িতেই তার আইসোলেশনে থাকার কথা। কিন্তু সেই তিনিই আসলেন কক্সবাজারের অন্যতম বড় জংশন লিংকরোডে স্টেশনে দোকানের ভাড়া তুলতে! ঘটনা এতটুকুতে শেষ হতে পারবো! কিন্তু তার পরের ঘটনা হচ্ছে, ভাড়াটে ভাড়া দিতে না পারায় তাকে পিটিয়েছেন এই করোনা রোগী। এই ‘আশ্চর্য্যজনক’ করোনা রোগীটি হলেন, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি ওই এলাকার আলী আহমদ কোম্পানির ভাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকদিন করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে রোগী জাহাঙ্গীর আলমের। স্বাস্থ্য বিধি মতে, প্রশাসন গিয়ে ওইদিনই তার বাড়ি লকডাউন করেন এবং তাকে হোম আইসালেশনে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে করোনা রোগী জাহাঙ্গীর আলম তার ভাই আলী আহমদ কোম্পানির কেরানি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির ‘স্বার্থে’ আজ দুপুর মঙ্গলবার ১২টার দিকে আইসালেশন থেকে বের হয়ে আলী আহমদ কোম্পানির মালিকানাধীন লিংকরোড স্টেশনের দোকানের ভাড়া তুলতে বের হন করোনা রোগী জাহাঙ্গীর আলম!

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকটি দোকান থাকায় একেকটি দোকান থেকে ভাড়া তুলে তুলে আসছিলেন তিনি। এর মধ্যে ইলিয়াছ স্টেশনারিজ’র মালিক ভাড়াটে সালামতের কাছে আসেন করোনা রোগী জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু হাতে টাকা না থাকায় ভাড়া পরে দেবেন বলে জানান ভাড়াটে সালামত। এতে ক্ষেপে গিয়ে তাকে মারধর শুরু করে এই করোনা রোগী। এই ঘটনার সাথে সাথে তিনি যে করোনা রোগী সেটা সবার নজরে আসে। খবর পেয়ে ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য কুদরত উল্লাহ সিকদার ও আরেক ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। তারা গিয়েই দ্রæত তাকে ওই স্থান সরিয়ে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

সত্যতা স্বীকার করে ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, এই ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে করোনা রোগী জাহাঙ্গীরের ওয়ার্ড মেম্বার নাসির উদ্দীন ও আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে তাকে দূরত্ব নিশ্চিত করে সেখান থেকে বাড়িয়ে পাঠিয়ে দিই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, করোনা রোগী বের জংশনে অবস্থান খবর পেয়েছি। তবে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়। তাকে আজকের মধ্যেই রামু ডেডিকেটেড আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রাত দিন এক করে আমরা সবাই সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করেছি। আমাদের করনীয় সব উপায় আমরা চেষ্টা চালিয়েছি। এরপরেও জনগনের একটু বোঝা উচিত। সতর্ক থাকা উচিত। তারা এখনো করোনা কে পরোয়া করছেনা। জাহাঙ্গীরের শরীরে করোনা উপসর্গনপাওয়া গেছে। তাই তাকে বাড়িতে হোম কোয়ারাইন্টান মেন্টেন করতে হবে।

আগামীকাল জাহাঙ্গীরের কর্ম এরিয়া লকডাউন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •