প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
বর্ষীয়ান ইসলামী রাজনীতিবিদ, বিদগ্ধ লেখক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, দৈনিক সরকার পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী ১১ মে ( ১ ৭ রমযান), সোমবার, রাত ৮ টায় ইন্তেকাল করেন- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে যান। দেশের প্রবীণ এ রাজনীতিবিদের ইন্তেকালে তাঁর ভক্ত, অনুরক্ত, সহযোদ্ধাসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী রহ. এর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কক্সবাজার জেলা আমীর ও ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, নায়েবে আমীর মাওলানা আ. হ. ম নুরুল কবির হিলালী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব, যুগ্ম-সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমান জিহাদী, মাওলানা ফরিদুল হক, কক্সবাজার শহর আমীর মাওলানা নুরুল হক চকোরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সাইফী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, কক্সবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ শওকত আলী, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ প্রমুখ।

এক শোক বার্তায় নেতবৃন্দ বলেন, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী রহ. ছিলেন একজন প্রথিতযশা ইসলামী রাজনীতিবিদ, বিদগ্ধ লেখক ও প্রবীণ আলেমেদ্বীন। শায়খুল ইসলাম আল্লামা আতহার আলী রহ., আল্লামা সৈয়দ মুসলেহ উদ্দিন রহ., খতীবে আযম আল্লামা ছিদ্দিক আহমদ রহ., আল্লামা আশরাফ আলী ধরমন্ডলী রহ. সহ বহু বুযুর্গ মনীষীর সান্নিধ্যে তিনি ইসলামী নেজাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ., আল্লামা মুফতি ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই রহ., আল্লামা মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ., আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা শাহ আহমদ উল্লাহ আশরফ রহ., মাওলানা নুরুল হক আরমান রহ. এর মতো শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে লড়াকু সৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ নেজামে পার্টির নীতিনির্ধারনী নেতৃত্বে যুক্ত থেকে সারাটি জীবন এ দেশে ইসলামী আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাগে আত্মনিবেদিত ছিলেন তিনি। আল্লামা মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ. এর ইন্তেকালের পর থেকে তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণসহ তিনি বহু ত্যাগ শিকার করেছেন। এ দেশের ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে মাওলানা নেজামীর বিপ্লবী ভূমিকা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়; সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, ইসলাম, দেশ ও জাতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাঁর ক্ষুরধার তাত্ত্বিক লিখনীও ছিল প্রশংসনীয়। বাংলা সাহিত্য ও ইংরেজী ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন তিনি। ইতিহাস ও বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কেও খুব ভালো গবেষণা ছিল তাঁর। একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ হয়েও বিলাসিতা, মোহ, অহঙ্কার ও দাম্ভিকতামুক্ত সহজ- সরল জীবন যাপন করতেন। সদালাপচারিতা, বিনয়, ভদ্রতা ছিল তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। মাহে রমযানে মাগফিরাতের দশকে আল্লাহ তা’আলার ডাকে সাড়া দিতে পারাটাও তাঁর জন্য বড়ই খোশনসিবের বিষয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার অধিকারী, নিরহঙ্কারী, সজ্জ্বন মানুষের বড়ই অভাব। জাতির সঙ্কটময় এ সময়ে মাওলানা নেজামীর মত বিচক্ষণ, বর্ষীয়ান ও গুণী রাজনীতিবিদের আকস্মিক চিরবিদায়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
আমরা মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •