ইব্রাহীম আজাদ বাবুঃ
বেবি অফ সাঞ্জিদা, মোঃ আলম ও মিসেস সাঞ্জিদার ৫ম সন্তানটি জন্মেছিল নির্দিষ্ট সময়েই পরিপূর্ণভাবে ৩ কেজি ওজন নিয়ে। কিন্তু জন্মগতভাবে তার মলদ্বার না থাকায় সে পায়খানা করতে পারছিল না। ফলে সে বার-বার বমি করছিলো এবং তার পেট ফুলে যাচ্ছিল।
এ ধরনের নবজাতকের জন্মের পর পরই অপারেশন এর মাধমে বিকল্প মলদ্বার তৈরি করা না গেলে নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব নয়।
কক্সবাজার সদর হাস্পাতালের ইতোপুর্বে এ ধরনের নবজাতকের অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। কারণ এতো ছোট বাচ্চার অজ্ঞান করা এবং অপারেশন পরবর্তীতে কৃত্রিম শ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর এর ব্যবস্থা সদর হাসপাতালে নাই। এছাড়া অপারেশন পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও এখানে অপ্রতুল।
কিন্তু করোনা কালীন লকডাউনের এ সময় গরীব এই পরিবারের এ বাচ্চাকে চট্রগ্রাম বা ঢাকা নেয়াও সম্ভব নয়।
কক্সবাজার সদর হাস্পাতালের শিশু বিভাগ সকল জটিলতা মাথায় রেখে এ রুগির অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২৬ এপ্রিল তারিখে সদর হাসপাতালেই এই নবজাতকের অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন কালিন দেখা যায় তার অন্ননালীর অধিকাংশই জন্মগতভাবে অপরিপুর্ন থাকায় তা কেটে ফেলতে হয়। ফলে অপারেশন পরবর্তী সময় তার জন্যে আরও ঝুঁকিপুর্ন হয়ে যায়।
কক্সবাজার সদর হাস্পাতালের নবজাতক (স্ক্যানু) বিভাগে ১৪ দিন জীবন-মৃত্যুর লড়াই শেষে, চিকিৎসক ও সেবিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বেবি অফ সাঞ্জিদা ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠে। প্রথমে নলের মাধ্যমে একটু একটু খাবার হজম করতে পারে। বর্তমানে সে সরাসরি মা এর দুধ পান করতে পারছে। আজ নবজাতটিকে ছুটি দেয়া সম্ভব হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নবজাতকের অপারেশন এই প্রথম এটিই সদর হাসপাতালের বিশেষত নবজাতক (স্ক্যানু) বিভাগের সাফল্যগাথার অন্যতম উদাহরণ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •