মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস যুদ্ধে দেশের স্থানীয় সরকার বিভাগ ফ্রন্ট লাইনে থেকে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। গত ২৫ মার্চ হতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও স্থানীয় সরকার বিভাগের কেউ এ ছুটি ভোগ করতে পারেননি। প্রায় প্রতিদিনই মাননীয় মন্ত্রী সহ করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে জরুরি করে কাজ করে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ তাঁর নিজস্ব ফেসবুক আইডি-তে গত ৮মে শুক্রবার বিকেলে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরো বলেন, দেশের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমুহের জরুরী পরিষেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যেমন-ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জীবানু নাশক ঔষধ ছিটানো, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি কাজ সরাসরি তদারকি করতে হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ করে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল শক্তিশালি করতে হচ্ছে।এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে অবস্থানকালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিধি যথাযথ মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য মাস্কস, হান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার ব্যবহার, স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী শারীরিক দুরত্বে অবস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

স্ট্যাটাসে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, ওয়াসা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক জরুরী পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে জেলা উপজেলায় হ্যান্ড ওয়াশিং ব্যবস্থা চালু রাখার কার্যক্রমও তদারকি করা হচ্ছে।ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিসে Disinfection Tunnel (জীবাণু নাশক ট্যানেল) স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজের গতি ও মনোবল বৃদ্ধির জন্য এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গত ২৪ মে শুক্রবার উন্নত মানের মাক্স ও হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করা হয় বলে স্ট্যাটাসে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু তিনি তাঁর শত ব্যস্ততার মাঝেও কক্সবাজার জেলার ত্রাণ বিতরণ সহ করোনা সংকটের সার্বিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের প্রধানমন্ত্রীর অর্পিত দায়িত্ব যে সুচারুভাবে পালন করছেন, সেটা সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ তাঁর দেওয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেননি। অথচ কক্সবাজারের এই বরপুত্র জেলার সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত সব বিষয়ে যোগাযোগ ও খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস বিষয়ে তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্স করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সাচিবিক দায়িত্বের মাঝেও তিনি স্বশরীরে কক্সবাজার এসে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নিয়ে সার্বিক বিষয়ে সমন্বয় সভা করেছেন। সভায় সববিষয়ে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। মোবাইল হাসপাতালের উদ্বোধন করেছেন। কক্সবাজার শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে কক্সবাজার পৌরসভার ত্রাণ এবং কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে পরিষদের ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এছাড়াও করোনা সংকট থেকে উত্তরনে বিভিন্ন পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

কক্সবাজারের সন্তান হিসাবে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ তাঁর দেওয়া স্ট্যাটাসে কক্সবাজারে বিভিন্ন তৎপরতা সমূহ তুলে ধরলে হয়ত বিমাতাসুলভ হয়েছে, অনেকে এরকম মনে করতে পারেন, হয়ত এজন্য তিনি তা তুলে ধরেননি।

নিন্মে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর ফেসবুক আইডি-তে দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

“করোনা যুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ সবসময় ফ্রন্ট লাইনে আছে। গত ২৫ মার্চ হতে অফিসে সরকারী ছুটি শুরু হলেও আমরা কিন্তু কোন ছুটি কাটাতে পারিনি। প্রায় প্রতিদিনই অফিসে মাননীয় মন্ত্রী সহ আমরা জরুরী কাজ করেছি। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সমুহের জরুরী পরিষেবা-যেমন ত্রাণ কার্যক্রম, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জীবানু নাশক ঔষধ ছিটানো, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি সরাসরি তদারকি করা এবং তাদের অর্থ বরাদ্দ করে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম শক্তিশালি করা। যাদের বিরুদ্ধে ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ওয়াসা এবং জনস্বাস্হ্য প্রকৌশল কর্তৃক জরুরী পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে জেলা উপজেলায় হ্যান্ড ওয়াশিং ব্যবস্হা রাখার কার্যক্রমও তদারকি করা হয়।
এ বিভাগের কর্মকর্তাদের অফিসে অবস্থানকালীন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার উপর জোর দেয়া হয়।
ইতোমধ্যে Disinfection Tunnel স্হাপন করা হয়েছে। মাস্কস, হান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার ব্যবহার, ব্যাক্তিগত দুরত্ব অবস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তর প্রণীত গাইড লাইন সকলকে অবহিত করা হয়েছে।
কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য এ বিভাগের কর্মকর্তাদের উন্নত মানের মাস্কস ও হ্যান্ড গ্লোভস বিতরণ করা হয়।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •