জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামে মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শপিংমল বন্ধ রাখবেন। নগরের প্রায় সব বড় শপিংমল ও দোকান মালিক সমিতি রোজায় তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে একমত হয়েছেন। তারা বলছেন, ‘জীবন বাঁচলেই জীবিকা।’

শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী মিমি শপিং সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন। বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক ভেবেছি, দোকানের মালিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি। জানি তারা ভালো নেই, দুই মাসের বেশি সময় ধরে মার্কেট বন্ধ। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগরের বেশির ভাগ শপিং সেন্টার ঈদের আগে না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতিগুলো। শুক্রবার বিকেলে নগরের বিভিন্ন শপিং সেন্টারের দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সমিতির সম্মিলিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আধুনিক শপিংমল সানমার ওশান সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আসাদ ইফতেখার বলেন, ‘নগরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আমরা বেশ কয়েকদিন ধরেই কথা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ সম্মিলিত বৈঠকে এ রোজার ঈদের আগে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় শপিংমলগুলোর অন্তত নয়টি শপিং সেন্টার ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জীবনের তাগিদেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের যে বড় শপিংমলগুলো না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলো হচ্ছে-সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট, ফিনলে স্কয়ার, আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, কল্লোল সুপার মার্কেট, আমিন সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, খুলশী কনকর্ড টাউন সেন্টার।

চট্টগ্রামে রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় ‘মধ্যবিত্তের বাজার’ বলে খ্যাত দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ হকার্স মার্কেটের ১১০টি দোকান মালিক সমিতি তাদের মার্কেটগুলো বন্ধ রাখতে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তামাকুমুন্ডিলেন বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

খুলশী কনর্ড টাউন সেন্টার শপিংমল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ বলেন, ‘কাল খুলশী টাউন সেন্টার বন্ধ ঘোষণার পর অনেক বেশি টেনশনে ছিলাম। কিন্তু আমি বরাবরই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, আমরা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেইনি। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের বড় সব শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল খোলার জন্য সরকার অনুমতি দিলেও সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে করোনার সংক্রণ রোধে চট্টগ্রামের শপিংসেন্টারগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

এদিকে আগামীকাল শনিবার (১১ মে) চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট ও লাকি প্লাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট ও লাকি প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘প্রথমত, আমাদের প্রস্তুতি নেই। দ্বিতীয়ত, করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি ঈদ-বাজারে মেনে চলা অসম্ভব। নিজেদের ও কর্মীদের জীবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

চট্টগ্রামের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সালেহ আহমেদ সোলাইমান বলেন, সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল খোলার জন্য অনুমতি দিয়েছে। তাই কেউ যদি চান তিনি শপিংমল বা দোকান বিধি মেন খোলা রাখতে পারবেন। এজন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। শুক্রবার নগরের বিভিন্ন মার্কেট মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ৩১ মে পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সবাই একমত হয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •