চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন ও দাফন কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে পুলিশ। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতই পুলিশ সদস্যরা নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এক পুলিশ সদস্য। তার নাম শওকত হোসাইন এরশাদ। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একজন কনস্টেবল।

এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেবা প্রদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ক কনস্টেবল শওকত বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষদের সেবা করার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সিএমপির সকল পুলিশ সদস্যরা যেভাবে আমাকে ভালোবাসেন, আমি একইভাবে চট্টগ্রামের সকল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেতে চাই। আমি সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পুলিশ ও সাধারণ জনগণের নমুনা সংগ্রহ করা, পুলিশ সদস্যদের খোঁজ-খবর রাখা এবং ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ নিয়ে কাজ করছি। এ দীর্ঘসময় পিপিই ব্যবহার করে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমি পিপিই ছাড়াই কাজ করছি। তবে মাঝেমাঝে উর্ধ্বতন স্যার দের সামনে আমি পিপিই ব্যবহার করি। এ কারণে তিন মাস যাবত আমি আমার পরিবারের সাথে দেখা করছি না। সিএমপি থেকে আমাকে ঠিক করে দেয়া একটি রুমে আমি থাকছি।’

সিএমপির মানবিক পুলিশ টিম প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগমের কাছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ২১ জন সদস্যের করোনা পজিটিভ। এছাড়াও ৫২ জন পুলিশ সদস্য আইসোলেশনে আছেন। পুলিশ সদস্যদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের মানবিক পুলিশ টিম কাজ করে যাচ্ছে। তারা নমুনা সংগ্রহ ও বিআইটিআইডিতে তা পরীক্ষার জন্য প্রেরণের কাজ করছে। এছাড়া তারা নগরের বিভিন্ন স্থানের সাধারণ মানুষদের সেবা প্রদান করছে। আমাদের এ মানবিক পুলিশ টিমের কাজ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ টিমও অনুসরণ করে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •