মুহাম্মদ হাশেম, পেকুয়া:
পেকুয়ায় পিতৃপরিচয় চাওয়ার জন্য সাংবাদিক ডেকে প্রেস ব্রিফিং করলেন এক শিক্ষিত যুবক। দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ পিতৃ পরিচয় পাননি অনার্স-মাস্টার্স সমাপ্ত করা ওই যুবক। পিতার স্বীকৃতির দাবী নিয়ে এবার পেকুয়ায় কলম সৈনিকদের নিয়ে করলেন সংবাদ সম্মেলন। এ সময় সৎ মা ও স্বজনদেরও প্রেস ব্রিফিংয়ে হাজির করালেন। এ সময় লিখিত বক্তব্যে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জনকারী ওই যুবক জানান, আমি পিতার অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২২ বছর বয়স হয়েছে, পিতার হক ও অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছি। আমি একজন ঔরসজাত পিতার সন্তান। বড় হয়েছি, শিক্ষাও অর্জন করেছি। তবে জন্মের পর থেকে সন্তানের প্রতি পিতার যে কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ থাকার কথা সে টুকু থেকে আমি অধিক অবহেলায় আছি। আমার মা আমাকে নিয়ে স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছি। সে সময় থেকে মা আমাকে মানুষ করার স্বপ্নে বিভোর ছিল। হাল ছাড়েননি। একমাত্র ছেলেকে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় আজকে শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। আমি কিছুই চাইনা। এ সমাজে শুধু চাই পিতৃপরিচয়। ২২ বছর পর আজকে গণমাধ্যম কর্মীদের লেখনির মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিবেককে প্রশ্ন রাখছি। আমি কি পিতার সন্তান হিসেবে পিতৃ পরিচয় পেতে পারিনা। তাহলে কেন আমাকে যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত এ অধিকার থেকে দূরে সরে রাখা গেল। ৮ মে (শুক্রবার) পেকুয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্টিত হয়। বিকেলে সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনায় হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুলের বাসভবনে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্টিত হয়েছে। এ সময় পেকুয়ার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে সাকিবুল ইসলাম (২২), তার সৎমা সাইফুল ইসলামের ১ম স্ত্রী সাবেকুন্নাহার প্রকাশ পাখি (৫২)। লিখিত বক্তব্যে সাবেকুন্নাহার তার স্বামী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উত্তাপন করেছেন। তিনি জানান, আমার স্বামী ৩ টি বিবাহ করেন। আমি ১ম স্ত্রী। দুটি বিবাহ হয়েছে আমার অনুমতি ছাড়া। তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছে। আমি ও আমার আরেক সতীন হাসনে আরাকে অমানসিক নির্যাতন করে স্বামী সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। স্ত্রী হিসেবে খরপোষ, স্ত্রীর অধিকার আমাকে দেয়া হচ্ছেনা। শুধু মারধর, নির্যাতন, বঞ্চনার মধ্যে আছি। আমার ছেলে সন্তানরাও পিতৃ অধিকার থেকে পৃথক করা হয়েছে। আমি স্বামীর এ আচরনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার চাই। স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এ প্রতারণার অবসান চাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও এ পরিবারের ভগ্নিপতি পেকুয়া চৌমুহনীর ব্যবসায়ী আবু হাসনাত। তারাও পৃথক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। মরহুম ফরিদুল হক চৌধুরীর ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল জানান, আমার ভাই সাইফুল ইসলাম তিনটি বিবাহ করেন। এক স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছে। দুই স্ত্রী পথে ঘাটে লাঞ্চনার শিকার। ১ম স্ত্রী দুই ছেলেকে আমি মানুষ করেছি। পড়ালেখা শিখিয়েছি। ১ জনকে লন্ডনে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করি। ১ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ভাই ছেলে সন্তান ও স্ত্রীদের হক আদায় করছে না। পৈত্রিক সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে ভাই বোনদের অধিকার হরণ করছে। মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে আমাদেরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পায়তারা করছে। তার প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করে নি:স্বার্থবান হয়েছে। ভাইবোনের অংশ গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় জবর দখল করে রেখেছে। এখন এ সব বললে মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখায়। এ সময় বক্তব্য দেন ফরিদুল হক চৌধুরীর মেয়ের জামাই আবু হাসনাত। তিনি জানান, শাশুড়ের প্রাপ্ত অংশ থেকে আমার স্ত্রী ও ছেলে সন্তানদের বঞ্চিত করে রাখছে। বড় ভাই সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সব সম্পত্তি একাই ভোগ করছে। হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বোনের প্রাপ্ত অংশের ওয়াসিলা আমাদেরকে পরিশোধ করে। কিন্তু বড় ভাই সাইফুল ইসলাম এ সব দিতে নারাজ। তাই সম্পত্তির দাবী নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •