শাহেদ মিজান, সিবিএন:

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের একমাত্র করোনামুক্ত উপজেলা কুতুবদিয়ায় ঢুকছে বাইরে থাকা লোকজন। প্রতিদিন চট্টগ্রাম, সাতকানিয়া, মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢুকছে এসব মানুষ। তবে একজনকেও ‘ছাড়’ দিচ্ছে না পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। দ্বীপে প্রবেশের মুখেই ধরে পাঠাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। আজ শুক্রবার (৮ মে) একদিনেই দ্বীপে প্রবেশ করা ৮২জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, কুতুবদিয়ার একটি বড় সংখ্যক মানুষ চট্টগ্রাম, সাতকানিয়া ও মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকেন। কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে তারা বাইরে থাকেন। আবার এদের অন্তত ৯০ ভাগ শ্রমজীবি। এরমধ্যে মহেশখালীতে যারা থাকেন তারা লবণ উৎপাদন শ্রমিক, সাতকানিয়ায় যারা থাকেন ইটভাটায় কাজ করেন। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থান করেন যারা তারা চাকরি করেন।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস বলেন, করোনার লকডাউন শুরুর সময় থেকে বাইরের দ্বীপের এসব মানুষ এলাকায় ফেরার চেষ্টা করে আসছে এবং নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও চলে আসেন। নৌপথ হওয়ায় তাদেরকে আটকানো বা চলে আসলে আর ফেরানানো সম্ভব হয় না। তাই কোয়ারান্টাইনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে নিয়েছি আমরা। প্রথম দিকে কিছু মানুষকে হোম কোয়ারান্টাইনের দিলেও পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠায় এখন প্রত্যেককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।

ওসি বলেন, পুলিশসহ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপন পথে এসে অনেক গোপনে বাড়িতে অবস্থান চেষ্টা করেন। কিন্তু পূর্ব নির্দেশনা মতো জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সহায়তায় তন্ন তন্ন করে খুঁজে তাদের বের করে এনে সোজা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।

ওসি জানান, কুতুবদিয়া এই পর্যন্ত ৪৪২জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে পুলিশ। হোম কোয়ারাইন্টাইনে রয়েছে একশ’র বেশি। এরা সাতকানিয়া, মহেশখালী, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কুতুবদিয়ায় প্রবেশ করেছে। উপজেলা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তৈরি করা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলোতে তাদের রাখা হয়েছে। তাদেরকে প্রত্যোককে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়। ইতোমধ্যে ১১৩ জনকে কোয়ারাইন্টাইন সময় ১৪ দিন সম্পন্ন করে ছাড় দেয়া হয়েছে।

ওসি দিদারুল ফেরদৌস বলেন, কুতুবদিয়াকে করেনা মুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা রাতদিন পাহারা দিয়েছে প্রবেশ করাদের আটকাচ্ছি। একই সাথে সচেতনতা কার্যক্রমসহ অন্যান্য করোনা রোধী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। সবার প্রচেষ্টায় আল্লাহর অসীম রহমতে এখন পর্যন্ত কুতুবদিয়া উপজেলার কোন বাসিন্দা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  জিয়াউল হক মীর বলেন, উপজেলা প্রশাসন কুতুবদিয়া প্রতিটি প্রবেশপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভিন্ন উপজেলা থেকে কোন লোক বা দীর্ঘদিন বাইরে থাকা কুতুবদিয়ার লোক কুতুবদিয়া উপজেলার ভৌগোলিক এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলেই তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনে তাদের কোয়ারান্টাইনে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •