আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকে এ ভাইরাসের উৎপত্তি চীনে হয়েছে বলে জেনে আসছে বিশ্ববাসী। বিভিন্ন দেশের গবেষকরাও তাই বলছেন।

তবে চীনের কোনো ল্যাব থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে কি-না তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। তাই করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে আবারও দেশটিতে প্রতিনিধি দল পাঠাতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভে জানান, করোনার উৎস অনুসন্ধানে আরও একবার চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনের উহান প্রদেশে গিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল। সেই সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাদুড় বা ওই জাতীয় প্রাণীর শরীরেই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। কিন্তু তারপর এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গোপন ল্যাবেই করোনার উৎপত্তি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে চাইনিজ ভাইরাস বলেও কটাক্ষ করেন। এরপর একাধিক ঘটনায় চীনকে আড়াল করার অভিযোগ ওঠে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রীও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চীনের প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ করেন।

তবে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স অফিস জানিয়েছে, এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি নিয়ে এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান জানান, চীনের সঙ্গে কথা বলা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দল ওখানে পৌঁছালেই হবে না, পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে দেখতে দেশটির সাহায্য দরকার। সেখানকার পরিকাঠামো ব্যবহার করার সুযোগও পেতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাদুড় থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায়, তাহলে তা কীভাবে মানুষের শরীরে এলো তার যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সত্যতা জানার জন্য তো বটেই, চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষকদের জন্যও তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবিসি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চীনের ল্যাবেই যে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু নিয়ে চীন তথ্য গোপন করেছে বলেও অভিযোগ করেন পম্পেও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরবর্তী মিশনের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনও কোনো প্রস্তাব তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে পায়নি। তবে বেইজিং জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। চীন এটাও চায়, করোনার উৎপত্তি নিয়ে বিতর্কের অবসান হোক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •