মোঃ নেজাম উদ্দিন:
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে গেছে কক্সবাজারের প্রায় সবকটি হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্ট। ফলে কর্মহীন প্রায় ১৩ হাজার কর্মী। তারা এখন ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছে। খবর নেই হোটেল মোটেল মালিকদের। এই হোটেল শ্রমিকদের দিয়ে বিগত দিনে ভালো ব্যবসা করে আসলেও দুর্দিনে তাদের খবর কেউ রাখছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে অনেকের বন্ধ হওয়ার আগে ফেরুয়ারী মাসের বেতন পেলেও তার পর থেকে মালিক পক্ষ তাদের ছুটি দিয়ে আর কোন খবর রাখেননি। আবার অন্যদিকে কিছু রেস্তারায় এসব হোটেলে দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজ নেই তো টাকাও নেই। ফলে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এসব কর্মীর পরিবার।
এদিকে হোটেল মোটেল শ্রমিকদের ‘বেতন কম বকশিসই সম্বল’, আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীদের আর্থিক অবস্থা বুঝাতে কথাটি প্রচলিত। কাজ করলে অল্প বেতনের সাথে জুটে বকশিস। এতেই চলে তাদের জীবন। গত দুইমাস (মার্চ এপ্রিল) বেতন পাননি তারা। আবার চলতি মাসের বেতন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না। মালিকরা করোনা ভাইরাসের অজুহাতে বেতন দিচ্ছেন না। আবার অনেকে মার্চে বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে বেতন দিয়ে চাকরি থেকে বিদায় করে দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে পর্যটন নগরীর আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কাজ করা একটি বিশাল অংশ।
বাবুল কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে বয় হিসাবে কাজ করেন, নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে হোটেল বন্ধ হওয়ায় বেতন পাননি। মার্চ মাসের ১০দিনের বেতন দিলেও তার পরে আর কোন খবর নেননি হোটেল মালিকপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বাবুলের পরিবার। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, হোটেল বন্ধ। তাই একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কিভাবে দিন কাটাচ্ছি, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। শুধু আমি না এই শহরের প্রায় ১৩হাজার হোটেল মোটেল ও রেস্তোরা কর্মী বেতন পাননি।’ তাই বেতনের নিশ্চয়তার পাশাপাশি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি চান বাবুলের।
এই মৌসুমে কক্সবাজার পর্যটন শহরের আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাগুলো গিজগিজ থাকত অতিথিদের পদচারণায়। কিন্তু বর্তমানে সব হোটেল রেস্তোরাগুলোর তালা ঝুলছে পড়ে আছে ফাঁকা। যে কারণে অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরা কর্মীদেরও দেওয়া হয়েছে ছুটি। সব মিলিয়ে জুন পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকলে এই শিল্পে ক্ষতি হবে প্রায় হাজার কোটি টাকা। এ আশঙ্কার কথা জানাচ্ছিলেন হোটেল মোটেল মালিক জোনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার। তিনি বলেন, ফ্রেরুয়ারি থেকে আমাদের ব্যবসায় ভাটা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত হোটেলগুলোতে ভিড় থাকে ।ডিসেম্বর থেকে জানুযারী পর্যন্ত ব্যবসা করতে পারলেও ফ্রেরুয়ারী থেকে দেশের করোনা ভাইরাসের কারনে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে কক্সবাজার।মার্চ থেকে সম্পূর্ন বন্ধ হওয়াতে আমরা মালিক পক্ষ বাধ্য হয়ে কর্মকর্তা কর্মচারিদের বিদায় করি ।
কক্সবাজারের বিরাম হোটেলের রুটি কারিগর শহিদুল্লাহ সোহেল বলেন, ‘আমাদের দেখার কেউ নেই। এই পর্যটন শহরে আবার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে অনেকে অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায় নাই। এই করোনার সময় ঘওে লকডাউনে আছি রেস্তারা মালিকরা আমাদেও খবর নিবে তো দুরের কথা গত মার্চ মাসের কিচু বেতন এখনো দেয়নি আমিসহ অধিকাংশ কর্মচার দের। আমরা কিভাবে চলছি তার কোনো খবর নিচ্ছেনা মালিক পক্ষের কেউ। এভাবে আর কতদিন থাকবো, না খেয়ে থাকার চেয়ে রাস্তায় নেমে জীবন দেওয়াও ভালো।’
মোহাম্মদ হোছন বিরাম হোটেলের আরেক কারিগর । এখানে সপ্তাহের শেষে বেতন হয় । দৈনিক বেতনে আমি চাকরি করছি আজ ৮ বছর। এখন আমার চাকরি নাই । বন্ধ করার সময় দুই দিনের বেতন পাওনা ছিল তার জন্য ফোন করেও মালিক কে পাওয়া যাচ্ছেনা ।
নবান্ন হোটেলের কারিগর আবছার। বুডো হয়ে গেছে এখনো রেস্তোরায় কাজ করছে তিনিও পাননি কোন সহায়তা আজ পর্যন্ত হোটেল মালিক এর পক্ষ থেকে।
কক্সবাজার জেলা হোটেল মোটেল শ্রমিকলীগ সভাপতি রুহুল কাদের মানিক বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের কারনে সব হোটেল মোটেল ও রেস্তোরা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে হোটেল মোটেল রেস্তোরা মিলে প্রায় ৬শত প্রতিষ্টানের ১৩ হাজার হোটেল মোটেল ও রেস্তোরা কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে কক্সবাজারের অনেক নাম করা রেস্তোরা মালিকরা তাদের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ আমদের হাতে আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রেস্তোরা মালিকদের সথে কথা বললে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পরে আলাদাভাবে বসার কথা বলে।
হোটেল মোটেল শ্রমিকলীগ নেতা আরো জানান, কক্সবাজারের হোটেল আল গণি, বিরাম হোটেল, বিচ বিরাম হোটেল, ঢাকা হোটেল নবান্ন হোটেলসহ প্রায় হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে তাদের লকডাউনের কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে এবং কোন প্রকার খোজ খবর রাখছেনা । আমি মনে করি যদি তাদের লকডাউনের কারনে ছুটি দিয়ে থাকে তবে তাদের খাবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর যদি একেবারে কাজ থেকে ছাটায় করা হয় তিন মাসের বেতন দিয়ে ছাটায় করতে হবে। কিন্তু তা না করে এই শ্রমিকদের দিয়ে সারা বছর ইনকাম করার পর এই দুর্যোগ মুহুর্তে তাদের পাশে নেই রেস্তোরা ও হোটেল মালিকপক্ষ তা দুঃখজনক ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •