মো. শাহ্ নেওয়াজঃ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে লকডাউন অবস্থা বিরাজ করছে বিশ্বে। এই ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি বাংলাদেশও। দিন দিন বেড়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এখন নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। ঘরবন্দি অবস্থায় শিক্ষার্থীদের এই দিনগুলো কেমন কাটছে- এ নিয়ে ঢাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে কক্সবাজার নিউজ(সিবিএন)। সিবিএনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছেন সিবিএন এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. শাহ্ নেওয়াজ।

করোনা মহামারীতে ঘরবন্দি জীবন ভালো কাটছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এর শিক্ষার্থী মো. রুবেল মিয়া বলেন, ” সব মিলিয়ে সময় মোটামুটি ভালই কাটছে। আমি ১৬মার্চ থেকে বাসায় অবস্থান করছি। আমার সর্বোচ্চ সময় কাটছে বই পড়ে। এখন পর্যন্ত ৩৫টি বই পড়েছি। পড়েছি উপন্যাস, ইতিহাস আর সায়েন্স ফিকশনের কিছু বই। একটি সবজির বাগান আছে সেখানে একটু সময় দিই। একটু টিভি দেখি আর একটু অনলাইনে সময়ে দিই। এই আর কি। কিন্তু তারপরও কি সময় কাটতে চায়! আমারও নীল আকাশ দেখতে মন চায়! সবুজ ঘাসে হাঁটতে মন চায়!”।

হতাশাব্যঞ্জক মনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওবায়েদ বলেন, “বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই ঘরকুনো হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ প্রায় ২ মাসের মত গৃহবন্দি অবস্থায় এক প্রকার অসহায়ত্বের মত দিনের প্রহর গুনতেছি।করোনার এই ধ্বংসাত্মক ছোবলে অনেকটা নিঃস্ব হওয়ার মত অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে রেখে আশা মুল্যবান বইপুস্তক গুলো বাসায় না আনার কারণে লক ডাউনের এই সময়ে সময় পার করা এক একটি মুহূর্ত যেনো এক একটি যুগ। অবশ্য মোবাইল ফোনে অনেক মুল্যবান পিডিএফ থাকলেও হার্ডকপির অভাবে পড়া হয় না।অন্যদিকে সকল ছাত্রছাত্রীদের একটি কমন সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় টিউশন করে নিজের খরচ চালাতে পারত,কিন্তু এখন লক ডাউনের এই সময়টাতে বেকার বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না।তাছাড়া করোনার আতঙ্ক দিন দিন প্রায় গাণিতিক হারেই বাড়তেছে।এমতাবস্থায় আমার একটাই দুশ্চিন্তা কবে অবসান হবে এই লকডাউন আর কবে বিদায় নিবে বিশ্ব থেকে করোনা মহামারী।গৃহবন্দি এই মুহূর্ত গুলোতে না পারছি কোথাও যেতে,না পারছি কিছু করতে।অনেক পরিকল্পনা থাকলেও করোনার কারণে সব যেন ভেস্তে যাচ্ছে। লক ডাউনের এই সময়ে নিজের পরিকল্পনাগুলো যেন একটি বছরই পিছিয়ে গেলো।কিন্তু লকডাউনের এই সময়ে একটা কথাই বার বার মনে পড়ে “মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।” হয়ত একদিন লকডাউন থাকবে না,থাকবে না করোনা মহামারী।এ আশায় আশায় ঘরবন্দি জীবন অতিবাহিত করতেছি।”

ঘরবন্দি জীবনের উপকারিতা উল্লেখ করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাসুদ রানা বলেন, “এই মহামারীতে ঘরবন্দী দিনগুলো যদিও বোরিং লাগছে কিন্তু এর পজিটিভ দিকও রয়েছে আমার কাছে। পরিবারের সবার সাথে সময় কাটছে। এছাড়া আমরা যুবসমাজ মিলে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসছি। এই অবসরে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যের বই পড়ছি। বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জায়গায় ফলমূল, শাকসবজির বাগান করছি, পরিচর্যা করছি । তবে আমি করোনা নিয়ে বেশ চিন্তিত, চিন্তিত এদেশের মানুষকে নিয়ে, এদেশের অর্থনীতি নিয়ে।”

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারনে ঘরবন্দি জীবন মোটামুটি ভালই কাটছে উল্লেখ করে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানসিনা সুলতানা শিরিন বলেন,” আমার কাছে এই ঘরবন্দি জীবনটা মোটামুটি ভালই কাটছে। এই সময় একাডেমিক পড়ার একটু ক্ষতি হলেও ব্যাপক অবসর সময় থাকার কারনে বিভিন্ন বিষয়ে আমার যে দুর্বলতাগুলো আছে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছি। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দিতে পারছি সেটাই আমার কাছে খুব ভালো লাগতেছে। তারপরও আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেনো দ্রুত এই পৃথীবি সুস্থ হয়ে যায়।

আমরা সবাই যদি সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে সব নিয়মকানুন মেনে চলি, তাহলে এই আধার দূর হয়ে আবার আলো ফিরে আসবে পৃথিবীতে ইনশাআল্লাহ।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •