ইউছুফ আরমান :

“স্ত্রীরা সব সময় স্বামীদের সন্দেহ করে
সন্দেহ সংসারের শান্তি বিনষ্ট করে
অতিরিক্ত সন্দেহ অমঙ্গল ডেকে আনে।”

পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে করেছিলেন ভালবাসার মানুষটিকে। সংসার জীবন ভালই কাটছিল রুদ্র দম্পতির। পাঁচ বছরের একটি ছেলেও ছয় মাসের ফুটফুটে কন্যা রয়েছে। রুদ্রের বয়স ৩৩ এবং তার স্ত্রী বৃষ্টির বয়স ২৫ বছর। সন্দেহ প্রবণতা একটি সুখী সম্পর্কে ভাঙন ধরিয়ে দিতে পারে খুব সহজে।

অযথা সন্দেহ করার প্রবণতা
যেহেতু সমাজের বেশীরভাগ বিবাহ এবং প্রেমের সম্পর্কে ভাঙন আসার মূল কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে একে ওপরের প্রতি অযথা সন্দেহ করার প্রবণতা। অনেকে বলেন ভালোবাসায় সন্দেহ থাকা ভালো এতে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়। এই কথাটি একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ মূল কথা হলো যেখানে সন্দেহ আসে সেখানে ভালোবাসা থাকতে পারে না।

অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা
কথায় বলে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। কথাটি প্রবাদ হলেও সত্যি। কারণ অলস ভাবে বসে থাকলে মনের মধ্যে অমূলক হাজার চিন্তা এসে হাজির হয়। আপনি অলস বসে আপনার সঙ্গীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, কিন্তু আপনার সঙ্গী ব্যস্ত বলে পারছেন না। যিনি ব্যস্ত তার মনে কিন্তু আপনাকে নিয়ে কোনো সন্দেহ আসে।

কারণে-অকারণে ঝগড়া
স্মার্ট দম্পতি বলতে যা বোঝায় রুদ্র বৃষ্টি দম্পতির মধ্যে সেসব গুণ বিদ্যমান। কিন্তু হঠাৎ করেই কেমন যেন একটা ভাঙ্গনের সুর বেজে উঠল সংসারে। একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে সন্দেহ। এই সন্দেহই সৃষ্টি করে কলহের। কারণে-অকারণে ঝগড়া হতে থাকে তাদের। এমনই এক পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয় আলাদা হয়ে যাওয়ার। কিন্তু সন্তানকে কেউ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। কাজেই আপনার কাছে কোনো খটকা লেগে থাকে আপনার সঙ্গী সম্পর্কে তবে তা সরাসরি তাকে জিজ্ঞেস করুন। এতে করে অন্তত ভুল বোঝাবোঝির হাত থেকে সম্পর্ককে বাঁচাতে পারবেন। এমনভাবে কোনো কথা জিজ্ঞেস করবেন না যাতে সঙ্গী কষ্ট পান এবং তার আত্মসম্মানবোধে লাগে। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলুন।

ভালবাসার ক্ষমতা রাখে না
একজন সন্দেহ প্রবন ব্যক্তি কোনোভাবেই মন থেকে ভালোবাসার ক্ষমতা রাখেন না। তাই এই সন্দেহ নামক বিষ থেকে যতো দূরে থাকা যায় ততোই ভালো। যদি আপনার মনে নিজের সঙ্গীকে নিয়ে কোনো প্রকাশ অমূলক সন্দেহ থেকে থাকে তবে তা আজই দূর করুন।

অজান্তেই দূরত্ব সৃষ্টি করে
মানুষের মধ্যে যৌনজীবন ব্যাপক একটা প্রভাব বিস্তার করে। এমনও ঘটনা ঘটেছে স্বামী বা স্ত্রী এ সময়টায় তাদের মধ্যে নিজের অজান্তেই দূরত্ব সৃষ্টি করে ফেলে। একসঙ্গে রাত্রি যাপনেও অনীহা তৈরি হয়। উভয়ই মনে করে সেক্সুয়ালি বুঝি তারা আনফিট। আর এটা যেন প্রকাশ না পায় সে কারণে একে অপরের কাছ থেকে লুকিয়ে বেড়ায়। আর এ লুকোচুরি থেকেই সৃষ্টি হয় সন্দেহের। স্বামীর মনে ধারণা হয় স্ত্রী বুঝি তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে আর স্ত্রীর ধারণা স্বামী বুঝি পরনারীর পরকিয়াতে আসক্ত হয়েছে। কিন্তু কেউ কাউকে স্পষ্ট করে কিছু বলে না। যার ফলে নিজ নিজ সন্দেহে অটুট থেকে সৃষ্টি করে অস্বস্তিকর পরিবেশের। একপর্যায়ে পথ খুঁজতে থাকে এ পরিবেশ থেকে বের হওয়ার। আর সে পথ হচ্ছে ডিভোর্স। অথচ কেউ জানলও না কি তাদের অপরাধ।

সচেতনতার প্রয়োজন
মানুষ যে কোন সময়ে মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে পারে। এর সমাধানও রয়েছে। সমাধান খুঁজে পেলে মানসিক শান্তি ফিরে আসবে। অথচ এই সহজ ব্যবস্থাকে আমরা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে আরও জটিল করে তুলি। আমাদের এখান থেকে কাউন্সিলিং করে অনেকেই সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছে। অবশ্য এর জন্য সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারগুলো যত বেশি মানুষকে বোঝানো যাবে তত বেশি তারা আশ্বস্ত হবে।

বিশ্বাস করুন
ভালোবাসার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। আপনি যদি আপনার সঙ্গীকে বিশ্বাসই করতে না পারলেন তবে আপনি তাকে আসলেই মন থেকে ভালোবাসেন নি। কারণ সত্যিকারের ভালোবাসায় বিশ্বাসের কোনো কমতি থাকে না। বলতে পারেন বিশ্বাস তো ভঙ্গ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে একটু বুদ্ধিমান। সঙ্গীর প্রতি কোন সময় পর্যন্ত বিশ্বাস রাখা সম্ভব তা সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ নির্ণয় করতে পারেন। কথা হচ্ছে অমূলক সন্দেহ সম্পর্কের মাঝে নিয়ে এসে সম্পর্কে টানাপোড়ন আনবেন না। সঙ্গীকে বিশ্বাস করুন।

লেখকঃ-কলামিষ্ট, সাহিত্যিক,  দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী, কক্সবাজার। ০১৬১৫-৮০৪৩৮৮  ই-মেইলঃ[email protected]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •