সংবাদদাতা:
করোনা পরিস্থিতিতে সবাই যখন লকডাউনে; প্রশাসনের নির্দেশ মেনে ঘর থেকে বের হচ্ছেনা, সেই সুযোগে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মুহুরীপাড়ায় (আল বয়ান পার্শ্ববর্তী) ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে জমিতে খুঁটি দেয়া হয়েছে। হাঁকাবকা করছে ক্রেতাদের।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর মডেল থানাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নিকট লিখিত আবেদন দিয়েছেন মো. হামিদ হোছাইন (ইউএসএ প্রবাসী)। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ তারাবনিয়ারছরা কচ্ছপিয়া পুকুরপাড়ের বাসিন্দা মরহুম নুর আহমদের ছেলে। সম্প্রতি তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন।

তার অভিযোগ মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী তার অপর দুই ভাই আমিনুল হক ও সেলিম উল্লাসহ তিনজনে মিলে ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রিযুক্ত ৪৬৭৭ নং কবলা দলিলমূলে ফোরকান আহমদ সিকদার, খদিজা বেগম, মরিয়ম খাতুন, ওবাইদুল হক, আমানুল হক, সিরাজুল হকের নিকট থেকে ০.০৮ একর জমি ক্রয় করেন। জমির অংশীদার হিসেবে আমমোক্তারনামা দিয়েছেন স্থানীয় লিয়াকত আলী সিকদারের স্ত্রী আসমা খানম।

জমি ক্রয়ের পর ক্রেতারা ওই জমির চারিদিকে ঘেরাবেড়া দিয়ে পাউন্ডি ও ধান চাষ করে ভোগ দখলে আছেন। অনুকূলে নামজারী ও জমা খারিজ মামলা নং-৪৮২৮(২)/২০১২ দায়ের করে পৃথক বিএস ১১২১৯ নং খতিয়ান সৃজন করেন।

মো. হামিদ হোছাইন অভিযোগে জানিয়েছেন, বৈধভাবে জমি কেনার পরও ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর অবৈধভাবে দখল চেষ্টা করেছেন লিয়াকত আলী সিকদারসহ আরো কয়েকজন। পরিবারের সদস্যদের অপহরণের হুমকি ও চাঁদা দাবী করেন। যে কারণে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ক্রেতারা (তিন ভাই) বাদি হয়ে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে অপর-৩৪৫/২০১৬ নং মামলা করেন। মামলা শুনানী শেষে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেন বিচারক। যা এখনো বলবৎ আছে।

তার অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তাও দেশের এই ক্রান্তিকালে সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের ক্রয়কৃত জমিতে গৃহ নির্মাণ, পাকা পিলারের ঘেরাবেড়া দিবে বলে হাঁকাবকা করতেছে দখলবাজচক্র। অন্যথায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে জানানো হয়। অথচ ওই জমিতে প্রধান অভিযুক্ত লিয়াকত আলী সিকদারের কোন মালিকানা বা স্বত্ত্ব নেই। বরং জমি বিক্রিতে তিনি নিজেই ‘মিডিয়া’ ছিলেন। বিক্রি দলিলে খোদ তার স্ত্রীও ‘আমমোক্তারনামা’ দাতা।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী সিকদারের বক্তব্য জানতে চাইলে মুঠোফোনে বলেন, আমি জমি দখল করার কে? বিষয়টি নিয়ে আদালতে ৪টি মামলা রয়েছে। আদালতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী ভুয়া দলিল বানিয়ে জমিটি তার দাবি করছে। এর বাইরে কিছু নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •