শাহেদ মিজান, সিবিএন:

বুধবার (৬ মে) কক্সবাজারে করোনা সনাক্ত দুইজনের একজন কক্সবাজার সদরের ঝিংলজা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মোক্তারকুল গ্রামের বাসিন্দা। তার বয়স ৫৫ বছর। ঝিংলজায় এর আগে কেউ করোনা আক্রান্ত হননি। তাই হঠাৎ এই মুদি দোকানি কিভাবে আক্রান্ত হলেন- এই প্রশ্ন এখন এলাকার মুখে মুখে। সবাই এই দোকানীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার রহস্য খুঁজছেন!

অন্যদিকে মোক্তারকুল মসজিদের সামনে অবস্থিত তার যে দোকানটি রয়েছে মাঝারি আকারের। তবুও এই দোকানে প্রতিদিন কম হলে একশ’ ক্রেতা কেনাকেটা করেন। এলাকার প্রায় সবাই কমবেশি এই দোকান থেকে কেনাকাটা করেন। তিনি করোনা সনাক্ত হওয়ায় তার সংস্পর্শে আসা ক্রেতা নয়; পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এলাকার একটি সূত্র বলছে, কয়েকদিন আগে ওই মুদি দোকানীর বাড়িতে কক্সবাজারের বাইর থেকে একজন লোক বেড়াতে এসেছিলেন। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন, করোনা সংক্রমিত এলাকার বাইরের কোনো লোক হয়তো তার দোকানে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন। তবে কোনো যুক্তিই ঠাঁই পাচ্ছে না!

কিভাবে এই দোকানী করোনায় আক্রান্ত হলেন, এই বিষয়ে তার স্ত্রীর ভাতিজা আরিফ যা জানিয়েছে তা হলো, ওই দোকানী ডায়বেটিসের রোগী। এর মধ্যে তিনি ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ কেনার জন্য দু’য়েকবার কক্সবাজার শহরের এসেছিলেন। পরিবারের লোকজন মন্তব্য করছেন, ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ কেনার জন্য কক্সবাজার শহরে যাওয়া অথবা কোনো ক্রেতার কাছ থেকে তিনি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

ঝিলংজা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, তিনি কিভাবে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তা আমরা কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না। কোনো ক্লু পাচ্ছি না। তার পরিবারের দেয়ার কারণের গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছি না। তার করোনা সনাক্ত পুরো এলাকা রীতিমতো একটা আতঙ্কের ডিপোতে পরিণত হয়েছে।

ঝিংলজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, ‘ঝিংলজা ইউনিয়নে প্রথম করোনা সনাক্ত নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। এই নিয়ে খুব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ওই দোকানীর রিপোর্ট ঘোষণার সাথে কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মোক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী আহসানহ পুলিশ গিয়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ওই দোকানীর ও দোকান লকডাউন করা দিয়েছেন। তিনি কিভাবে করোনা আক্রান্ত তা হয়েছেন তা জানা চেষ্টা চলছে।’

কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী আহসান বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত এই দোকানীর সংস্পর্শে সকলকে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে তার ক্রেতাদের সচেতন হয়ে নিজেদের উদ্যোগে নমুনার পরীক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ এতগুলো মানুষ ‍সনাক্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পরিবারের লোকজন চিহ্নিত স্পর্শদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •