বার্তা পরিবেশক :

২০০৩ সালে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাবেক ইউএনও সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি ২০০৩ সালে সাধারণ সভার রেজুলেশন রাতারাতি বদল করে পুরাতন শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে রামু উপজেলার দক্ষিন মিঠাছড়ি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি। এছাড়া সভাপতির হুমকিতে বেশির ভাগ শিক্ষক এখন মাদ্রাসায় যেতে পারছেনা বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৫৭ সালে বৃহত্তর রামু উপজেলায় দ্বীনি শিক্ষার জন্য স্থানীয় সমাজ সেবক আবদুল মাবুদ চৌধুরী গড়ে তুলেন দক্ষিন মিঠাছড়ি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখে গেছে ২০০৩ সালের ১৩ নভেম্বর দক্ষিন মিঠাছড়ি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাধারণ সভায় ১৫ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। এর আগে শিক্ষক নিয়োগের সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন রামু উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান এবং এতে রামু উপজেলার তৎকালীন শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি আবদুর রহিম সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এতে নিয়োগ পান সহ সুপার মুহাম্মদ ইসমাঈল,সহকারী মৌলভী মুহাম্মদ আলী আকবর,জসীম উদ্দিন,মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন,সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মোদাচ্ছের মোরাদ,আবদুর রহমান,জহিরুল ইসলাম,মুহাম্মদ হাসান,আবুল কালাম,মোস্তাক আহামদ,মাওলানা মুফিজ উল্লাহ,মুর্শিদা বেগম,নিম্মমান সহকারী হারুন-অর-রশিদ,এম.এল.এস.এস দিদারুল আলম,দপ্তরী সুফিয়া খাতুন। কিন্তু সম্প্রতি এই মাদ্রাসা এমপিও তালিকা ভুক্তি হওয়ায় এসব শিক্ষকদের বাদ দিয়ে রাতারাতি সেই রেজুলেশন বাদ দিয়ে সাবেক ইউএনও সহ সমস্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নতুন শিক্ষক এমপিও তালিকায় দিয়েছে এই প্রতিষ্টান।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন,২০/৫/২০১৮ সালে এমপিও তালিকায় অর্ন্তভুক্তির জন্য আবেদনে শিক্ষক তালিকার সাথে বর্তমানে দেওয়া তালিকার কোন মিল নেই। এছাড়া বর্তমান সুপার আবুল কালামের নিয়োগ ২০১০ সালে কিন্তু জালিয়াতি করে উনি সহ ২০০৩ সালে নিয়োগ হয়েছে বলে দেখাচ্ছে। আর পুরাতন তালিকায় সহ নতুন শিক্ষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা নিচ্ছে। আর যারা গরীব শিক্ষক টাকা দিতে পারছেনা তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনেক আগে থেকে বর্তমান সভাপতি ও মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের হুমকিতে বেশির ভাগ শিক্ষক মাদ্রাসায় যেতে পারছেনা।

এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অসহায় শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে ২০০৩ সালে নিয়োগ পাওয়া সহ সুপার মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন,আমি সহ ১৫ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ হয়েছিল। আমি বর্তমানে উক্ত মাদ্রাসায় নেই কিন্তু বাকিদের নিয়ম অনুযায়ী এমপিও হওয়ার কথা। এ ব্যপারে রামু উপজেলার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন,২০০৩ সালের ১৩ নভেম্বর আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলাম এটা সত্য এখন আমাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কেউ অবৈধ কাজ করলে সেটা দন্ডনিয় অপরাধ হবে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার বর্তমান সুপার আবুল কালাম বলেন,আমার নিয়োগ ২০১০ সালে এটা সত্য তবে যারা অভিযোগ করছে যারা কেউ বর্তমানে মাদ্রাসায় নেই। আর স্থানীয় চেয়ারম্যান সব কিছু দেকভাল করছেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনুচ ভুট্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে ফোন রেখে দেন।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সরকার এসব বিষয়ে খুব সতর্ক কোন শিক্ষা প্রতিষ্টান এ ধরনের জালিয়াতি করলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •