মো. নুরুল করিম আরমান, লামা:
কোন ধরণের উপসর্গ ছাড়াই এবার বান্দরবানের লামা উপজেলায় দ্বিতীয় বারের মত এক যুবকের (২৫) নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ এসেছে, অর্থাৎ তার শরীরে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২ জনে। বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক। তিনি জানান, কাছাকাছি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২ মে ওই যুবকের নমুনা দেয়ার পর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে তার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে করোনা পজেটিভ আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী নাজেম উদ্দিন বলেন, আক্রান্ত যুবকের শরীরে কোন উপসর্গ দেখা যাচ্ছেনা। বর্তমানে তিনি ৯৫ ভাগ সুস্থ আছেন। তবে ১৪দিন পর পরীক্ষার জন্য আবারো তার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তাকে একটি আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আক্রান্ত যুবক উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি গয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবল চাকমা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার ও স্বাস্থ্য সহকারী মো. নাজেম উদ্দিন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত যুবকের বাড়িতে ছুঁটে যান। এ সময় আক্রান্তের বাড়িসহ আশপাশের ৭ বাড়িকে লকডাউন ঘোষনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবল চাকমা। লকডাউনকৃত বাড়ীর লোকজনের খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থার পাশাপাশি তদারকির জন্য একজন আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে বলেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার। এর আগে লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা মুসলিম পাড়ার মো. জামাল উদ্দিনের স্ত্রীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা রিপোর্ট পজেটিভ ও ৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এ বিষযে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ- জান্নাত রুমি বলেন, প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমন এড়াতে আক্রান্তের আশপাশের ৭ বাড়িকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৪ দিন পর্যন্ত লকডাউনকৃতরা ঘর থেকে বের হতে পারবেন না কিংবা কেউ বাহির থেকে তাদের সংস্পর্শে যেতে পারবেন না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •