শাহেদ মিজান, সিবিএন:

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন কক্সবাজারের আরো চার করোনা রোগী। তারা হলেন, হলেন, মহেশখালীর হেলাল উদ্দীন, হোসাইন সাব্বির ও অঞ্জলী বালা বড়ুয়া এবং টেকনাফে ইদ্রিস। বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা নাগাদ রামুর ৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটড আইসোলেশন সেন্টার থেকে তাদের ছাড় দেয়া হয়। রামু ডেডিকেটড করোনা আইসোলেশন সেন্টার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার দ্বিতীয়বার নমুনা নেগেটিভ এসেছে তাদের। চার জনের মধ্যে তিনজন মহেশখালীর এবং একজন টেকনাফের। পর্যবেক্ষণের পর শারীরিক অবস্থা ভালো হলেই আজকেই তাদেরকে আনুষ্ঠানিক করোনা মুক্ত ঘোষণা করে আইসোলেশন সেন্টার থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে। বাড়ি ফেরার সময় তাদেরকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের স্বাগত জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রামুর ৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটড আইসোলেশন সেন্টার ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আলী হাসান ও সদস্য সচিব ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়াসহ চিকিৎসক ও নার্সরা। সরকারি এ্যাম্বল্যান্সে করে তাদেরকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

করোনা রোগীর পাশে বৌদ্ধ ভিক্ষু:
আজ ৬ মে ২০২০, ২৫৬৪ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। এই পবিত্রদিনে কক্সবাজার জেলায় করোনায় আক্রান্ত রামু হাসপাতালের নব নির্মিত ভবনের আইসোলেশনে থাকা প্রায় ২৫ জন করোনা রোগী ও করোনা রোগীদের জীবন রক্ষক, বর্তমান সময়ে দেশের সম্মুখ যোদ্ধা নামে খ্যাত রামু হাসপাতালের ২০ জন ডাক্তার নার্সদের জন্য আপেল, মালটা, শশা, আনারস, আঙ্গুর, তরমুজ, আম, ভাঙ্গী, কলা লেবুসহ বিভিন্ন ফল রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বাবু নোবেল কুমার বড়ুয়া ও রামু আইসোলেশনের প্রধান ডাক্তার আলী হাসানকে প্রদান করেন রামু ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম তীর্থস্থানের প্রধান পরিচালক কে. শ্রী জ্যোতিসেন থের।

রামু ডেডিকেটড করোনা আইসোলেশন সেন্টার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, রামু ডেডিকেটড আইসোলেশন সেন্টারে জেলার ২৫জন করোনা রোগী চিকিৎসাথীন রয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার দ্বিতীবার নমুনা পরীক্ষায় চার জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। দ্বিতীয়বার রিপোর্ট নেগেটিভ আসা মানে রোগী সুস্থ্য। এতে সুস্থ্য ঘোষণা করে ছাড় দেয়া যায়। সে বিবেচনায় রামু ডেডিকেটড আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন প্রথমবার জনকে ছাড় দেয়া হয়েছে। তারা ছাড় পেলেও বাড়ি ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে গত ৬ মে পর্যন্ত ৫১ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই বহিঃগমনকারী। তবে স্থানীয় রয়েছেন। রয়েছেন তিন চিকিৎসকও। ৫১ জনের রামুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি বাড়ি ফিরে গেছে মহেশখালীর প্রথম আক্রান্ত ছয়জনজনসহ আট জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •