রামু প্রতিনিধি :

রামুতে আগাছানাশক ছিটিয়ে ধ্বংস করা ধান পরিদর্শন করেছেন রামু উপজেলা নির্বাহঅ অফিসার প্রণয় চামমা। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে শান্তনা দেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^াস দেন।

উল্লেখ্য রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের জারাইলতলী স্কুলের পাশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে কৃষক শাহ আলমের ধান ক্ষেতে আগাছা নাশক এসিড দিয়ে পুরো ধান ক্ষেত পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আবদুর রহমানের ছেলে কৃষক শাহ আলম। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (৪ মে) দুপুরে ওই কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত ধান ক্ষেত দেখতে যান ইউএনও প্রণয় চাকমা। এসময় রামু থানার এএসআই রাজিব বড়–য়া, এনএসআই প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহ আলম জানান, রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহমদের পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে ফিরোজ মিয়া, ফিরোজ মিয়ার ছেলে নাছির উদ্দিন ও চাকমারকুল আলী হোসেন সিকদার পাড়া গ্রামের মৃত মো. হাসানের ছেলে আবদুর রহিম তার ধান ক্ষেত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গত ২৮ এপ্রিল রাতে আগাছানাশক এসিড ছিটিয়ে দেন। পরদিন জমির ধান ক্ষেত এর প্রভাবে বিবর্ণ হতে শুরু করে। এতে ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষক শাহ আলম। তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইতিপূর্বে এ জমি জবর-দখলের চেষ্টা চালালে তিনি আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করেন। জবর-দখলে ব্যর্থ হয়েই বিষ ছিটিয়ে পাকা ধান ক্ষেত পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ক্ষতিগ্রস্ত শাহ আলম। ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানও ক্ষতিগ্রস্ত ধান ক্ষেত দেখতে গিয়েছিলেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ওই জমিতে আগাছানাশক দিয়ে ধান ক্ষেত বিনষ্ট করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত আগাছানাশক দেয়ায় ক্ষেতের ধান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা সমাধান করা যায়। তাই বলে ধান ক্ষেত এভাবে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংস করা চরম অন্যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •