শাহেদ মিজান, সিবিএন:

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কর্মহীনসহ অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে পর্যাপ্ত সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে। এই সহায়তায় রয়েছে, চাল ও অর্থ। অন্যদিকে বরাদ্দ প্রতিটি উপজেলায় সমহারে বন্টনও করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত সরকারি এই সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে করোনা প্রকোপ শুরু থেকে সর্বশেষ সময় পর্যন্ত পাওয়া সরকারে বরাদ্দ এবং বন্টনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে সাময়িকভাবে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৫ দফায় বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে জিআর চাল ১৮৫০ মেট্রিক টন, জিআর ক্যাশ ৯৬ লক্ষ টাকা এবং শিশুখাদ্য ক্রয়বাবদ অর্থ ২৭ লক্ষ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে পাওয়া চাহিদার ভিত্তিতে সরকার থেকে প্রাপ্ত সহায়তা পরিবার সংখ্যা, দারিদ্রতা, ঝুঁকির মাত্রা প্রভৃতি বিবেচনায় উপজেলা ভিত্তিক সমভাবে উপ-বরাদ্দ (বিতরণ) করা হয়েছে। ক্রমিক উপজেলা/ পৌরসভা তালকিাভুক্ত পরিবার সংখ্যা মোট বরাদ্দ
কক্সবাজার সদরের ২৬১০২ পরিবারের ৩০২.৮ মেট্রিক টন, রামুর ৮৪৫২ পরিবারের ১১৯ মেট্রিক টন, চকরিয়ার ৩১৮৯৯ পরিবারে ৩১৫ মেট্রিক টন, পেকুয়ার ১১৮২৬ পরিবারের ১১৮ মেট্রিক টন, মহেশখালীর ৯৫১৯ পরিবারে ১৫১ মেট্রিক টন, কুতুবদিয়ার ৬৫০৫ পরিবারে ১০০ মেট্রিক টন, উখিয়ার ৭৪৮৮ পরিবারের ৬৫ মেট্রিক টন, এবং টেকনাফের ৫৩৪২ পরিবারের ৬৯ মেট্রিক টন ।

এছাড়াও পৌরসভা ভিত্তিক আলাদা বরাদ্দ করা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১২৪৭৩ পরিবারের ১২৫.২ মেট্রিক টন, চকরিয়া পৌরসভার ১০৬৬৩ পরিবারে ১১১ মেট্রিক টন, মহেশখালী পৌরসভার ৩১০০ পরিবারের ৫২ মেট্রিক টন এবং টেকনাফ পৌরসভার ৪০৭০ পরিবারে ২২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সর্বমোট ১৩৭৪৩৯ পরিবারের জন্য ১৫৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তথ্য মতে, চালের অনুরূপাবে জিআর ৭৫,৮৩,১০৮ টাকা এবং শিশুখাদ্য ক্রয়বাবদ ২১,০০,০০০ টাকা উপজেলা পর্যায়ে উপ-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা পরিবার প্রতি বিতরণ এবং কম বেশী হলে পুন: চাহিদার ভিত্তিতে পরবর্তীতে দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জরুরী পরিস্থিতিতে বিতরণের জন্য জিআর চাল ৩০০ মেট্রিক টন, জিআর ক্যাশ ২০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা এবং শিশুখাদ্য ক্রয়বাবদ ৬ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমন- রাজনৈতিক দল, এনজিও, ব্যক্তি, সংগঠন, সংস্থা প্রভৃতি উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। জেলার ৮ টি উপজেলায় তারা এ পর্যন্ত ৪৯,৮১৭ জন উপকারভোগীর নিকট নগদ অর্থ সহায়তা বাবদ ১,০৪,৫৫,০০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরণের খাদ্য সহায়তা যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য ২,৫৪,২৩,৬৪৬ টাকা বিতরণ করেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোল্লা মাসুদুর রহমান জানান, উপজেলাগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুসারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ যাবৎ সকল উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে, কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়নি। সকল উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সম্বলিত লোগো ব্যবহার করে অসহায়-দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এছাড়াও জেলা প্রশাসকের ও ইউএনওদের মোবাইলে পাঠানো মেসেজ, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ৩৩৩ প্রভৃতি মাধ্যমে মানুষজন ত্রাণ সহায়তা চেয়ে থাকে। যা তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসনের দেয়া বার্তা মতে, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলাদেশে ৫০ লক্ষ পরিবারকে মাসিক ২০ কেজি হারে চাল প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় ৭৫,০০০ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে। বিগত ২মে কক্সবাজার জেলায় কোভিড ১৯ সংক্রান্ত কার্যাবলী সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, মেয়র, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রাপ্ত ৭৫,০০০ পরিবারের বরাদ্দ সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারির জনসংখ্যা অনুযায়ী বিভাজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ত্রাণ বিতরণে সম্ভাব্য উপকারভোগীর নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন একটি কঠিন কাজ। সাধারণত, স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রণীত তালিকা-ই চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যক্তির নাম তালিকা হতে বাদ পড়া, একই মানুষ একাধিক সুবিধা পাওয়া, বেনামী মানুষের অন্তর্ভূক্তি ইত্যাদি অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে থাকে। ত্রাণ বিতরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা থাকায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে তালিকা প্রণয়ন করা হয় বলে পুরোপুরি নির্ভুল একটি তালিকা প্রণয়ন করা অনেক সময় কষ্ট সাধ্য হয়। এ সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এক্সেস টু ইনফরমেশন কর্মসূচির সহায়তায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায় যে, ত্রাণ বিতরণে দ্বৈততা সহ অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিহার করা সম্ভব হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •