মহেশখালী প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ৫ মে দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়। আহত কলেজ ছাত্রের নাম মেহেদী হাসান মিরাজ। সে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট নয়াপাড়া গ্রামের আবদু শুক্কুরের পুত্র। নিহত মেহেদী পটিয়া সরকারী কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র।

জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২ মে শাপলাপুর জেএম ঘাট নয়াপাড়া গ্রামের বজল আহমদের পুত্র শাহেদ ও মোঃ বাদশার পুত্র সরওয়ারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কলেজ ছাত্র মেহেদীর উপর হামলা চালায়। এতে মেহেদী গুরুত্বর আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে লক ডাউনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মেহেদী বাড়িতে আসে। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে শাপলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পল্লী চিকিৎসক ওসমানের নির্দেশেই তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর শাহেদ ও ওসমানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে মেহেদীকে হত্যা করা হয়।

এদিকে এলাকাবাসী আরো জানায়, হামলার আগে সন্ত্রাসী গ্রুপটি পল্লী চিকিৎসক ওসমানের বাড়িতে বৈঠক করে পরিকল্পনা করে। এছাড়াও হামলার পর খুনি শাহেদ ও সরওয়ার প্রকাশ্যে বাজারে ঘুরে বেড়ায় এবং নিহত মেহেদীর পরিবারকে হুমকি দেয়। মুলত পল্লী চিকিৎসক ওসমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বলেও জানান এলাকাবাসী।

এদিকে কলেজ ছাত্র মেহেদীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এছাড়াও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও মেহেদী হত্যার বিচার চেয়ে সোস্যাল মিড়িয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মেহেদী হত্যার বিচার না পেলে মানববন্ধনের ডাক দিবে বলে জানায় মহেশখালীর ছাত্রদের একটি সংগঠন। তারা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে।

এই ব্যাপারে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ ছেলেটির মারা যাওয়ার খবর শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •