প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
বুদ্ধবর্ষ গণনাকাল শুরু হয় গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পর থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৪ অব্দে গৌতম বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্ত হন। সে হিসাবে আগামীকাল ৬ মে ২০২০ খ্রিস্টাব্দ বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের (৫৪৪+২০২০) ২৫৬৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। রাজকুমার সিদ্ধার্থের জন্ম, বুদ্ধত্বলাভ এবং বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্তি এই তিনটি অনন্য ঘটনা শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা দিনে সংঘটিত হয়েছিল। তাই বিশ্বময় বৈশাখী পূর্ণিমা ত্রিস্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা নামে সর্বাধিক পরিচিত। দিনটি আন্তর্জাতিক পরিসরে পালিত হবার পাশাপাশি জাতিসংঘও প্রতিবছর সদর দপ্তরে যথাযথ মর্যাদার সাথে ‘বেশাখ ডে’ তথা বৈশাখী পূর্ণিমা পালন করে থাকেন।

বর্তমান বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের কাছে ধরাশায়ী। সারাবিশ্ব জুড়ে এখন আতংকের নামই হলো করোনাভাইরাস। সংক্রামক এই ব্যাধি থেকে আত্মরক্ষার আপাতত একমাত্র কার্যকর প্রতিষেধক হলো সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বোচ্চ সতর্ক জীবন যাপন করা। গণজমায়েত, যত্রতত্র ঘোরাফেরা সহ ঘরের বাইরের যাবতীয় কর্মকান্ড এড়িয়ে চলা।এই মহামারি প্রতিরোধের মোক্ষম অস্ত্র হলো ঘরবন্দী হয়ে থাকা।

তাই কক্সবাজার জেলার বৌদ্ধ সম্প্রদায় সরকারের জাতীয় কর্মসূচীর ঘোষণা অনুযায়ী এবং জনসুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ব্যাপক পরিসরে এবারের শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা পালন করবেন না। বৌদ্ধ বিহারের বাইরের সব ধরণের কর্মসূচী- সভা, র‌্যালী, এক বিহার থেকে অন্য বিহারে যাতায়াত এবং গণজমায়েত এর মত ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকবেন।

তবে বৌদ্ধ বিহার গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং কোনো ধরণের জমায়েত ছাড়া বিহার কর্তৃপক্ষ চাইলে সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন। সীমিত পরিসরে বিহারে আলোকসজ্জাও হতে পারে।

বুদ্ধপূজা, প্রদীপ জ্বালানো, ধুপ জ্বালানোর মত পুণ্যকর্ম পারতপক্ষে বিহারে এসে জমায়েত করে সম্পাদন না করার জন্য জেলার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ এবং আহবান জানাচ্ছি। কারণ আপনি সুস্থ ও ভালো থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধর্মকর্ম সবই করতে পারবেন। ধর্মও একথা বলে।

এই সংকট এক সময় কেটে যাবে। আমরা সবাই আগের মত করেই বাচঁবো। আমরা যেন সামাজিক, শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে দূরে থেকেও একে অপরের পাশে থাকার নীতি অবলম্বন করে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারি সেই নিবেদন রইল।

জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমার মৈত্রীময় আগাম শুভেচ্ছা জানাই।

“জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •