এম, রিদুয়ানুল হক

বেশ কয়েকটি শর্তে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের শপিং মলগুলো খোলা রাখা যাবে জানিয়ে জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের সোমবার নির্দেশনা পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটি সরকারের মারাত্মক গলদ বলে মনে করছি।

কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়টা দুইদিকে ক্রিটিক্যাল। একটি হচ্ছে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ার পথে। আরেকটি হচ্ছে, এই সময়ে সংক্রমণ মোকাবেলায় কতটা পদক্ষেপ বা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে সেটা।

এই দুটো দিক থেকেই এই মাসটা অবশ্যই ক্রিটিক্যাল। কারণ এ সময়টাতেই লকডাউন করে আন্ত:জেলা যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। মানুষের যাতায়ত এবং রাস্তাঘাটে তাদের অবস্থান কম চোখে পড়েছে। মানুষ ঘরে থেকেছে। পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। সে হিসেবে লকডাউনটা বেশ ভাল কাজ করেছে এবং এটা বেশ ভাল পদক্ষেপ ছিল। আর এ কারণেই ঢাকা থেকে সংক্রমণ গ্রামে তেমন একটা পৌঁছাতে পারেনি।

তবে বর্তমান মাসে শুধু ঢাকা নয় পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে মহামারি করোনা। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এবিষয়ে তেমন সফলতা অর্জন করতে পারেনি। যখন বাংলাদেশ নামক ছোট্ট এই দেশে করোনার বিস্তার মারাত্মকভাবে বাড়ছে, তখনই সরকার ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আগামী ১০ মে থেকে দোকান-পাট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছে। আমি বলবো এটি সরকারের ব্যর্থতা। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসা উচিত।

যে দেশে মানুষের চলাচল বা মানুষের কাছাকাছি আসার সুযোগ খুব বেশি একটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। লকডাউনকে সফল করতে পারেনি। সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারি, ডাক্তার, পুলিশ সহ অসংখ্য বাঙালি। বাদ যায়নি এমপি, ইউএনও, এসিল্যান্ড সহ উপজেলা-জেলার প্রশাসনের লোকও। সেই দেশে এখনো দোকান-পাট ও শপিং মল খোলার সময় আসেনি। কেন সরকার এই রকম মারাত্মক একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। এই দেশে করোনা নিয়ে যেখানে বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করছেন, সেখানে দোকান-পাট ও শপিং মল খোলার সিদ্ধান্ত ভয়ংকর হতে পারে। মনে রাখা উচিত, জীবনের চেয়ে শপিং মল বড় নয়।

পরিশেষে সরকারকে বলবো- মহামারি করোনা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে, আপনাদের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পাল্টাতে হবে। মহা পণ্ডিতদের ভুল পরামর্শ নিয়ে দেশকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবেন না। আমরা বাঁচতে চাই। খোদা হাফেজ।

 

লেখক-শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •