আবুল কাসেম আশরাফ

সিয়াম তথা রমজান শরীফের রোজা কেবল আমাদের উপর ফরজ নয়।বরং পূর্ববর্তী সকল নবী -রাসুলের উম্মতের উপরও ফরজ ছিল।এর মাধ্যমে সিয়াম পালনকারীর আত্মিক উৎকর্ষ সাধিত হয়।ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়েও মানুষ মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও ভয়ে কোন কিছুই পানাহার করে না।মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে।
মহান আল্লাহ বলেন, “তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে।যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর।যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার “।
সূরা -আল বাকারা,আয়াত ১৮৩

মানুষের স্বভাবতই লোভ -লালসা, হিংসা -বিদ্বেষ ,ক্রোধ -ক্ষোভ, কামভাবের বাসনা থাকে।কিন্তু এহেন গর্হিত কাজ থেকে সিয়াম সাধনা মানুষকে মুক্ত ও পূত পবিত্র থাকতে শেখায়।

যেহেতু সিয়াম হলো ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মধ্যকার প্রতিবন্ধকতা স্বরুপ।তাই মহানবী( সঃ) বলেছেন, “সিয়াম( রোজা)ঢাল স্বরুপ”।(বুখারী)
সিয়াম পালনের মাধ্যমে রোজাদারের দৈহিক,মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জিত হয়।

সিয়ামের সামাজিক শিক্ষা :
সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি,ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। ক্ষুধার্ত থাকার ফলে অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে।এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রকৃত অবস্থা সামর্থ্যবানরা অনুধাবন করে তাদের প্রতি সর্বোচ্চ দয়ার্দ্র হয়।মহানবী (সঃ)বলেছেন, “এ মাস সহানুভূতির মাস “।

রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ (সঃ)সাহাবীদের দান -সদকা করতে উদ্বুদ্ধ করতেন,তিনি নিজেও তেমনিভাবে খুব দান -সদকা করতেন।হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)বলেন, “বিশেষ করে রমজান এলে রাসুলুল্লাহ( সঃ)এর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত “।(মুসলিম)

সিয়ামের ধর্মীয় গুরুত্ব :
রমজান মাসে সৎকাজের প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন।সিয়ামের বিনিময় সম্পর্কে হাদীসে কুদ্‌সীতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন -“রোজা আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো “।(বুখারী)

সিয়ামের নৈতিক শিক্ষা :
রোজা পালনকারী ব্যক্তি আত্মিক সাধনায় অন্যায় – অশ্লীল কাজকর্ম ও কথাবার্তা পরিহার করে চলে। হানাহানি থেকে দূরে থাকে।ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে।অধিক সওয়াবের আশায় একে অপরকে সেহেরি ও ইফতারি করাই এবং অভাবীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে।এতে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়।

সুতরাং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবং সামাজিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে আমাদের অবশ্যই সিয়াম পালন করা উচিত। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুক।

– সহকারী শিক্ষক, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার সদর ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •