রামুই আমার সংসার

প্রকাশ: ৪ মে, ২০২০ ১২:৪২ , আপডেট: ৪ মে, ২০২০ ১২:৪৮

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


শাহেদ মিজান, সিবিএন:

কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন তিনি। টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকা অবস্থায় ওনার ইউএনও পদে পদোন্নতি হয়েছিলো। কিন্তু কক্সবাজারকে ভালোবেসে ফেলা এই মানুষটির ইউএনও হয়েই প্রথম পদায়ন কক্সবাজারে হয়েছে। রামুতে ইউএনও হিসেবে শুরু করেছিলেন তার ‘ইউএনও জীবন’। ইউএনও হিসেবে যোগ দিয়েই রামুতে এক ব্যতিক্রমী প্রশাসনিক কাঠামোর যাত্রা করেছিলেন। যে কাঠামো এখন সমানতালে চলমান। এই করোনাকালে তাঁর নেতৃত্বে রামুতে করোনা রোধে সর্বসম্মত কার্যক্রম অত্যন্ত বেগমান রয়েছে- যা অন্যান্য উপজেলা থেকে একটু হলেও ব্যত্রিক্রম। এই ব্যতিক্রমী মানুষটি হলেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউএনও প্রণয় চাকমা রামুতে যোগ দেয়ার পর রামুর প্রশাসনিক কাঠামো অত্যন্ত গতিশীল হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম থেকে শুরু করে তৃণমুল পর্যায় পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সদা তৎপর থাকেন। বিভিন্ন অবৈধ ও নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ড রোধ, উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে তৃণমুল পর্যন্ত সেবা ও শাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনয়ন এবং খারাপ লোকদের ঠেকাতে তিনি কোনো রকম পিছপা হননি। এতে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন।

মহামারি করোনা ভাইরাস যেন এই দায়িত্বপরায়ণ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। করোনায় প্রতি মুহূর্ত নিজের করণীয়কে প্রাধান্য দিয়ে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও প্রয়ণ চাকমা। শুধু দিন নয়; গভীর রাতেও সরকারি ত্রাণের বস্তা নিয়ে টোকা দিয়েছেন অসহায় মানুষের দরোজায়। খুঁজে খুঁজে খেটে খাওয়া মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন ত্রাণ।

অন্যদিকে করোনা রোধে সরকারি এবং স্বাস্থ্য বিধিসিদ্ধ করণীয়তে কোনো ধরণের অবহেলা তিনি করেননি। বরং তিনি রুটিন ভুলে সীমাবদ্ধতার দেয়াল ভেঙে রাতকে দিন বানিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালে মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রতি মুহূর্তে ছুটে চলেছেন অঁজপাড়া পর্যন্ত। নিজের সম্মোহনী ভাষায় মানুষকে বুঝিয়েছেন করোনার বিধি-নিষেধ সম্পর্কে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা হলেও রামুতে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা একেবারে কম (একজন)। এই সাথে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতা।

করোনায় কক্সবাজারের প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারাও বেশ গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এ যাত্রায় প্রণয় নিশ্চয়ই একটু হলেও এগিয়ে থাকবেন- এমনটি বলছেন রামুর জনসাধারণ।

রামুকে কেন যত্ন করে রেখেছেন ইউএনও প্রণয় চাকমা? সে বিষয়টি সোমবার (৪ এপ্রিল) তার নিজের ফেসবুক পেজে এক আবেগঘণ দীর্ঘ লেখা পোস্ট করেছেন। সেখানে তার নিজের এবং রামু ও রামুর মানুষের জন্য তার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার অনেক কথা বলেছেন। বলেছেন, রামুই তাঁর সংসার। তার এই আবেগঘন পোস্টটি ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত হয়েছে। পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।-

আমি প্রনয় চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রামু করোনাকালের এই ষাটতম দিনেও মাঠে-ঘাটে চষে বেড়াচ্ছি, যাচ্ছি প্রতিটি মানুষের দুয়ারে। সচেতন করছি, ত্রাণ দিচ্ছি। যার বাসায় অন্ন নেই তার বাসায় নিজে অন্ন দিয়েছি। এটি আমার গল্প। জীবনের তরে আমার জীবন উৎসর্গ করলাম। আমি মানুষটা এমনই।
এবার আসি উপজেলা প্রশাসন, রামুর কথায়। এটি আমার সংসার। আমি এই সংসারের ব্যবস্থাপক। আমার সংসারে উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীকে নিয়ে করোনাকালের এই সংকট মোকাবেলায় রাত-দিন কাজ করছি। আমরা সবাই রামুরই। কারণ আমরা রামুকে ভালোবাসি, রামুর মানুষকে ভালোবাসি এবং ভালোবাসব। আর ভালোবাসি বলেই এখনো আছি এবং থাকবো।
এখন আসি রামুর আপামর মানুষের কথায় যারা আমার এবং আমাদের সংসারের মূল কেন্দ্র। যাদেরকে নিয়ে আমরা রচনা করি আমাদের সাফল্য গাথা। করোনা সংকট শুরু হওয়ার সময় থেকেই রামুর সচেতন মানুষ আমাকে এবং আমার সংসারকে বেগবান করেছেন এবং করছেন বিভিন্ন তথ্য দিয়ে যাতে রামুর আপামর জনসাধারণ করোনাকে চিনে এবং জানে। আমি এবং আমার উপজেলা প্রশাসন সমর্থ হয়েছি করোনাকালের ৫০ তম দিনেও কোন করোনা পজিটিভ রোগী আমাদের রামুতে সনাক্ত হয়নি। এখানেই আমাদের সাফল্য গাথা। আর একজন যিনি হয়েছেন তিনি তো সনাক্ত হওয়ার একদিন আগে রামুতে আসছেন।
আর এখন আসি ত্রাণের কথায়। মাননীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনাক্রমে ১১ ইউনিয়ন পরিষদকে সাথে নিয়ে অসহায়-দুঃস্থ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে আমরা এখনো ত্রাণ পৌছাচ্ছি। আমরা আমাদের সবকিছু নিয়ে এই সংকটকে মোকাবেলা করছি এটি আমাদের প্রত্যয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংগালি জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ০৭ ই মার্চের সেই ভাষণ আমাদের প্রেরণা। এই যুদ্ধে আমরা সফল হবোই।
পরিশেষে আসি টমটম, সিএনজি বা মাহিন্দ্র এর কথায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন, রামুর বিরুদ্ধে কিছু  সিএনজি, টমটম বা মাহিন্দ্র এর চাকা পাংচার হওয়ার কিছু ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই আমরা এসব শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে তাদেরকে আমাদের নিজেদের ঘাম ঝরানো সংগ্রহকৃত নগদ টাকা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার প্রদান করেছি। মাননীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শ ও নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি যেগুলোর তথ্য উপাত্ত আমাদের হাতে ছবিসহ প্রমাণিত। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এদেশের মাটি ও মানুষের ঘামের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আপামর মানুষের সেবায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করেছি। ক্ষমতার দাপট দেখাতে নয়, নিজেদেরকে আপামর মানুষের সেবায় সপে দিতে। আমাদের পাশে থাকুন, দেখুন করোনার এই সংকটে আমরা কিভাবে কাজ করছি।
উপজেলা প্রশাসন, রামু  সবসময় রামুর জনগণের পাশে আছে, থাকবে। আমরা কর্মী, মাঠের শ্রমিক। মাঠেই থাকবো। দয়া করে কেউ অপপ্রচার করবেন না। অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •