এডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান

এক।

খবরটি নিম্নরূপঃ

“করোনাভাইরাসের আবির্ভাব কীভাবে হলো, এ নিয়ে এখনো সন্দিহান বিজ্ঞানীরা। কোন প্রাণির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। অনেকে আবার এর মাঝে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজছেন। কেউ এতে চীনের ভূমিকা দেখছেন, কেউ যুক্তরাষ্ট্রের। মারাত সাফিন দ্বিতীয় পক্ষে আছেন। রাশিয়ার সাবেক টেনিস তারকার দাবি, মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ বসানোর ষড়যন্ত্রের অংশ এই করোনাভাইরাস সংক্রমণ! বিশ্বে বরাবরই দেখা গেছে, যেকোনো ঘটনা নিয়েই সন্দেহবাতিকরা প্রশ্ন তোলেন। চাঁদে মানুষের পা রাখা, টুইন টাওয়ারে হামলা—সন্দেহবাতিকরা সবকিছুকেই ভুয়া বলে দাবি তোলেন। এতদিনে জানা গেল মারিত সাফিন এ দলে পড়েন। এই টেনিস তারকার ধারণা বিল গেটস আসলে ভালো মানুষ সাজার চেষ্টা করছেন। করোনাভাইরাসের মতো কোনো ভাইরাস যে ছড়িয়ে পড়বে, গেটসের এমন সতর্কবার্তা দেখেই নাকি সাফিনের সন্দেহ হয়েছে বড় ধরণের কোনো ষড়যন্ত্র বহুদিন ধরেই চলছে, এবং সেটা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেই। স্পোর্টস ডট আরইউর সঙ্গে কথোপকথনে সাফিন দাবি করেছেন, ‘আমার ধারণা তারা মানুষের শরীরে চিপ স্থাপন করতে চায়, সবকিছু এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে গেটস বলে দিয়েছেন, একটা মহামারি হবে। ভবিষ্যতে আমাদের বড় শত্রু হবে ভাইরাস, কোনো পারমানবিক যুদ্ধ নয়। ওরা ডাভোস ফোরামে এমন কিছু হলে কী হবে তার একটি পরীক্ষা করে নিয়েছিল। আমার মনে হয় না গেটস কোনো ভবিষ্যদ্বানী করেছিল।“

এখানে পড়ুন- করোনা ছড়ানো হয়েছে মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ বসানোর জন্য

দুই।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়াতে বিল গেটস ও তাঁর করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রাণান্ত চেষ্টা নিয়ে এ ধরণের নেতিবাচক খবর বেরিয়েছে। সেগুলো ভাইরালও হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি নিজেই এই মরণঘাতি ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছেন; তিনি আবার মানবজাতির ত্রাণকর্তার ভুমিকায়ও অবতীর্ণ হতে চান; করোনা চিকিৎসার জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কারে উঠেপড়ে লেগেছেন; হাসপাতাল গড়ে তুলছেন; তাঁর উদ্দেশ্য মানবসেবা নয়; তিনি ওই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে অদৃশ্য মাইক্রোচিপ মানুষের শরীরে ঢুকিয়ে দিয়ে দূর থেকে মানুষের শরীর, মন, স্মৃতি, বুদ্ধিমত্তাসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করে গোটা দুনিয়া হাতের মুঠোয় নিয়ে নিতে চান; মানুষকে সার্বক্ষণিক ট্র্যাকিং এর আওতায় নিয়ে আসতে চান।

তিন।

এসব খবর স্বাভাবিকভাবেই খুব ভয়ের ও উদ্বেগের। কারণ, মানুষ করোনা ভাইরাসের কার্যকর কোন প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক আবিষ্কারের সুখবরের জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছেন। আর ঘটনাচক্রে বিল গেটস এর তরফে যদি সেরকম কিছু আবিষ্কৃত হয়েই যায়, তো সবাই সেটি গ্রহণের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বেন। কিন্তু তাতে যদি ওই মাইক্রোচিপ বসানো থাকে?

চার।

মাইক্রোচিপের বিষয়টি আসলে সত্য, নাকি মিথ্যা? এ নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ফ্যাক্টচেক ডট অর্গ অন্যতম। তাঁরা বলছেন, বিল গেটস তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ও হাসপাতাল তৈরির কাজ করছেন, তা সত্য। কিন্তু মাইক্রোচিপের বিষয়টি আসলে ভুয়া; করোনা নিয়ে অন্যান্য গুজবের মতো এটিও একটি গুজব মাত্র।

এখানে পড়ুন-Conspiracy Theory Misinterprets Goals of Gates Foundation

পাঁচ।

আসুন, গুজব থেকে দূরে থাকি; ঘরে থাকার নির্দেশনা মেনে নিরাপদ থাকি আর রহমত ও নাজাতের পবিত্র এই সময়টাতে স্রষ্টার করুণায় করোনা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা করি।

মোহাম্মদ শাহজাহানঃ আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, মুঠোফোন-০১৮২৭৬৫৬৮১৬

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •