আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে অবৈধ অভিবাসীদের আটক করছে মালয়েশিয়া। গত কয়েকদিনের অভিযানে শত শত অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে বলে শনিবার দেশটির পুলিশের প্রধান আব্দুল হামিদ বদর জানিয়েছেন।

পুলিশের এই প্রধান দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামা নিউজ অ্যাজেন্সিকে বলেন, আমরা তাদেরকে অবাধে চলাচল করতে দিতে পারি না… তারা যদি অবস্থান পাল্টে ফেলে তাহলে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, শুক্রবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়া পুলিশ সাত শতাধিক অভিবাসীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে শিশু এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া জাতিগত রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছে।

দেশটিতে অবৈধ অভিবাসী বিশেষ করে রোহিঙ্গারা করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছেন বলে জনগণের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। অনেকেই অবৈধ অভিবাসীদেরকে দেশের জন্য বোঝা বলে মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান না চালাতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অভিবাসীদের আটক করে জনাকীর্ণ শিবিরে রাখা হলে সেখানে ভাইরাসের বিস্তারের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতার এবং আটকের ভয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এসব মানুষ আত্মগোপনে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এমন করা হলে সেটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। এমনকি তাদের মাধ্যমে অন্যদের মাঝেও কোভিড-১৯ বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মালয়েশিয়ায় বৈধ বিদেশি শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ। তবে এই সংখ্যা ছাড়াও অনিবন্ধিত আরও অনেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে বসবাস করেন বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। মালয়েশিয়া শরণার্থীদের সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয় না; তাদের কে অবৈধ অভিবাসী হিসাবে মনে করে।

দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব অভিবাসীদের আটকের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আটককৃতদের সবারই শরীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে। কাউকে এখন পর্যন্ত করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

মালয়েশিয়ায় শনিবার নতুন করে আরও ১০৫ জনকে করোনা আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬ হাজার ১৭৬ জনে। এছাড়া করোনায় মারা গেছেন অন্তত ১০৩ জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •