চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে করোনার ভয়াবহতা বাড়ছে। করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে ঘর থাকতে বলা হচ্ছে। এরই মধ্যে শত শত শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নামছেন।

আজ শনিবার (২ মে) সকালে সাড়ে ১০টায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর খোয়াজনগরে অবস্থিত গোল্ডেন সন লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন ইনফিনিটি লিমিটেডে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সড়কে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।

পরে সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস কারখানার মালিক ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের আশ্বাসের ভিত্তিতে ঐ কারখানার পুতুল সেকশনের শত শত শ্রমিকরা রাস্তা থেকে সরিয়ে যায় ।

মহামারী ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বেশির ভাগ গার্মেন্ট এখন পুনরায় সীমিত আকারে চালু হয়েছে। তবে সরকার এরই মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছে মালিকদের। গার্মেন্ট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধে। কিন্তু গোল্ডেন ইনফিনিটি লিমিটেডের শ্রমিকদের দাবি তারা গত তিন মাসের বেতন পায়নি। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কারখানাটির মালিক এখনো বেতন পরিশোধ করেননি।
ফলে আজ সকালে কারখানাটির সামনে মেইন গেইট এলাকায় শত শত শ্রমিক বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, মহামারী করোনা আতঙ্ক নিয়েও কাজ করে বেতন না দিলে আমরা খাব কী, আমাদের চলার কোনো উপায় নেই। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কের দুই পাশে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করেন। এ সময় রাস্তায় যানজট লেগে যায়। শ্রমিকরা আরো জানান, টানা কয়েক সপ্তাহ ছুটি চলছে। পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও বেতন না পাওয়ায় তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

গোল্ডেন সন লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন ইনফিনিটি লিমিটেডের স্টেস অফিসার মো. ওমর হায়দার চট্টগ্রাম নিউজকে জানান, কোম্পানীটি বাংলাদেশ-জার্মানীর এর যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত। নির্দিষ্ট সময়ে প্রোডাকশন ও সঠিক সময়ে শিপমেন্ট না হওয়ায় বেতন দিতে একটু সমস্যা হয়েছে। আমাকে থানার ওসি সাহেবও রিং করেছিলেন অামি বিষয়টি বুঝিয়ে বলছি। আগামী ১০ মে এর মধ্যে এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতনসহ পরিশোধ করে দেব।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন চট্টগ্রাম নিউজকে জানান, সকালে গোল্ডেন ইনফিনিটি লিমিটেডে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করলে আমরা মালিক পক্ষের সাথে কথা বলেছি। খুব শিগগরিই বেতন দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলে পরে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে চলে যান। এখন কোন সমস্যা নাই।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •