ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমাদের ভাইবোনদের। বাবা কক্সবাজারের প্রথম সারির একজন সাংবাদিক বলেই হয়তো কয়েকটি পত্রিকা রাখা হতো বাসায়। ছোটবেলা থেকেই আপসহীন কয়েকজন সাংবাদিককে দেখে আমার বেড়ে ওঠা, যাদের নাম না বললেই নয়—শ্রদ্ধেয় নূরুল ইসলাম, শ্রদ্ধেয় আব্দুল কুদ্দুস রানা, শ্রদ্ধেয় মোহাম্মদ আলি জিন্নাত। আর তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইমরুল কায়েস, ইমাম খাইর ও বিটিভির জাহেদ সরওয়ার সোহেল।

কিছুদিন ধরে চালচুরি নিয়ে পেকুয়ার একটি খবর অনুসরণ করছিলাম। খুব কৌতূহলোদ্দীপক মনে হল, কারণ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেখানে ইউপি সদস্য-চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে ত্রাণের চালচুরির অভিযোগ উঠেছে, সেখানে পেকুয়ায় একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কৌতূহলোদ্দীপক হওয়ারই কথা। তাই বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এ সংক্রান্ত খবর পড়তে লাগলাম।

চালচুরির ঘটনাটি ফেসবুকনির্ভর তথাকথিত সাইনবোর্ডধারী কিছু সাংবাদিক চালচুরি করে ধরা পড়া চেয়ারম্যান আর যার আশীর্বাদপুষ্ট এই চেয়ারম্যান, তাকে বাঁচানোর জন্য জেলার একমাত্র নারী ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে দায়ী করে সংবাদ পরিবেশন করতে শুরু করে—যাকে নিয়ে আগে কোনও বিতর্ক শোনা যায়নি। তাদের সংবাদ পড়ে মনে হয় ইউএনও একজন বড় সন্ত্রাসী। অথচ করোনার এই মহামারীর সময় বিভিন্ন উপজেলায় সরকারের এসব কর্মকর্তারাই সম্মুখযোদ্ধা হয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

ড. আশরাফুল ইসলাম সজীবকে ধন্যবাদ জানাই ফেসবুক লাইভে পেকুয়ার ঘটনা বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার জন্য। জেলা প্রশাসনের তদন্তে পেকুয়ার ইউএনও নিরপরাধ ও চেয়ারম্যান দোষী প্রমাণিত হলেও কার অঙ্গুলিহেলনে ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে, তা রহস্যই থেকে গেল।

আমাদের দেশে এখন কাকের চেয়ে সাংবাদিক বেশি, কক্সবাজারের ক্ষেত্রে এ কথা আরও বেশি সত্য। আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার যেতেই অসংখ্য সাংবাদিক চোখে পড়ে। অনেক পরিচিত জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকবন্ধুদের মুখে শুনেছি, এসব যোগ্যতাহীন আঞ্চলিক রিপোর্টারদের পাঠানো খবর, বাক্য, বানান এডিট করতে গিয়ে তাদের গলদঘর্ম হতে হয়।

অন্যদিকে যারা ত্রাণ চুরি করছেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে ছাড় দেবেন না। উনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, সবকিছুই তাঁর নজরে রয়েছে। যারা দেশের এই মেধাবী নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে উঠে-পড়ে লেগেছেন, তাদের আমলনামাও একদিন প্রকাশিত হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এই বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অজস্র ধন্যবাদ জানাই।

আর সেসব সাংবাদিককে আমার সহস্র সালাম যারা এখনও টাকা আর রাজনীতির জন্য নিজেকে বিক্রি করেননি, শ্রদ্ধা সেই রাজনীতিবিদদের যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশকে ভালোবেসে আত্মত্যাগ করে যাচ্ছেন। আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানকে, যিনি চালচোরদের সাথে সাথে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। এই দেশ আমাদের, আমরাই বাংলাদেশ।

নাঈম সোবহান চৌধুরী

ফেলো, রয়েল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ

যুক্তরাজ্য।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •