মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১০ বেডের পরিপূর্ণ অত্যাধুনিক আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-Intencive care unit) এবং ১০ বেডের এইচডিইউ (হাই ডিপেডন্সি ইউনিট-High dependency unit) আগামী ১৭ মে’র আগে চালু করা যাচ্ছেনা। বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা সংকটে মেডিকেল ইকুইপমেন্টের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এজন্য বিশ্ববাজারে মেডিকেল ইকুইপমেন্টের চরম সংকট চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন (Lockdown) থাকায় প্রয়োজনীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্ট আমদানি করতেও সময় ক্ষেপন হচ্ছে। প্রায় ২৫% মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে পৌঁছেছে। আগামী ৯/১০ মে’র মধ্যে অবশিষ্ট মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দেশে পৌঁছানোর যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে। যদি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট আমদানি এ সময়ের মধ্যে হয়, তাহলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১০ বেডের পরিপূর্ণ অত্যাধুনিক আইসিইউ এবং ১০ বেডের আগামী ১৭ মে’র মধ্যে চালু করা যাবে।

এ নির্মাণকাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একটি সুত্র সিবিএন-কে এতথ্য জানিয়েছেন। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর)-এর ৩৫ কোটি টাকারও অধিক ব্যয়ে অত্যাধুনিক বহুমুখী সুবিধা সম্বলিত এই ২০ বেডের আইসিইউ এবং এইসডিইউ নির্মাণ করছে। ইতিমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৫% সম্পন্ন হয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছে।

একই কারণে উখিয়াতে ২শ’ বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল আগামী ১৭মে’র আগে চালু করা যাচ্ছেনা। গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া উখিয়া করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৯০% ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর) এর অর্থায়নে এই বৃহৎ আকারের আধুনিক করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটি নির্মিত হচ্ছে। হাসপাতাল নির্মাণ কাজের সক্রিয়ভাবে জড়িত একই সুত্র সিবিএন-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুত্র মতে, উখিয়ার করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটি আগামি ১০ মে’র মধ্যে চালু করার টার্গেট থাকলেও উপরোক্ত কারণে তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে।

উখিয়া কলেজের একটু দক্ষিণ পার্শ্বে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের সামান্য ভিতরে এই করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় দিবারাত্রি পুরোদমে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন আইসোলেশন হাসপাতালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরনার্থীরাও চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালটির সকল চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, স্বাস্থ্য কর্মী, এ্যাম্বুলেন্স সহ মাসিক সকল ব্যয়ভার ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ বহন করবেন। এ হাসপাতালে আপাতত শুধুমাত্র করোনা ভাইরাস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ২০ বেডের আইসিইউ এবং এইসডিইউ-তে ভেন্টিলেটর সার্ভিসের জন্য অক্সিজেন প্ল্যান্টও একইসাথে নির্মান করা হচ্ছে। সুত্র আরো জানান, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আগে কোন আইসিইউ ছিলোনা। শুধুমাত্র ২ বেডের অসম্পূর্ণ এইসডিইউ ছিলো।

বিশ্বস্ত এই সুত্র মতে, নির্মাণাধীন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউ এবং এইসডিইউ এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ক্লিনার, অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী সহ মাসিক ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। নির্মাণাধীন আইসিইউ এবং এইসডিইউ এর প্রতিমাসের এই অতিরিক্ত ব্যয়ও নিয়মিত ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

সুত্রমতে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউ-এইসডিইউ এবং উখিয়া করোনা হাসপাতালের জন্য ‘জাতিসংঘ সামগ্রী ও করোনা ভাইরাস রিলেটেড অগ্রাধিকার’ দিয়ে আমদানি ব্যয় অনেক বেশি গেলেও জরুরি কার্গোবিমানে মেডিকেল যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, উখিয়ায় নির্মাণাধীন করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটি পুরোপুরি নির্মিত হলে এটি হবে কক্সবাজারের প্রথম পরিপূর্ণ একটি করোনা আইসোলেন (COVID-19) হাসপাতাল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •