শাহী কামরান:
তানভীর নামের এক এসএসসি ফলপ্রার্থী যুবক তাবলীগ জামায়াত গিয়েছিল গত এক মাস আগে। ঢাকা হতে গত দুই দিন আগে বাড়িতে ফিরেই আত্মগোপনে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার হতে একটু ভিতরে মৌলভীপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। তার পিতার নাম এছারুল হক প্রকাশ এছার খলিবা। এই ঘটনার পর হতে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে। কারো চোখে ঘুম নেই,রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে সচেতনমহল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তানভীর নামের ওই যুবক তাবলীগ জামায়াতে পাড়ি জমান গত মাস খানেক আগে সুদূর ঢাকা। করোনা ভাইরাসের কারনে সারাদেশ যখন লকডাউনে ঠিক তখন সে গ্রামে আসতে পারছিলনা বলে তা সবাই অবগত। হঠাৎ করেই তার কিছু এলাকার বন্ধু (নাম জানাতে অনিচ্ছুক) তাদের কে তানভীরের মা স্বীকার করেছে যে সে গত দুই দিন আগে গোপনে রাতে বাড়ি ফিরেছে। এবং সে কথা যেন জানাজানি না হয় সবাইকে অনুরোধ করেন তার মা স্বয়ং। যদিও এখন ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা।

এদিকে, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সবার কাছে বিষয়টি জানাজানি হলে তানভীরের পরিবার অস্বীকার যাচ্ছে। তবে তানভীরের বাবা গত ৩দিন আগে বিকাশে ঢাকা টাকা পাঠিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন প্রতিবেদকের কাছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে, তানভীরের বাবা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন। তার দাবি তার ছেলে এখনো ঢাকায়। ঢাকায় কার কাছে রয়েছে তার ফোন নাম্বার অথবা তানভীরের ফোন নাম্বার চাইলে তিনি রাজি হননি। পরে একটি গ্রামীন নাম্বার দিতে তিনি বাধ্য হন যে নাম্বার সন্ধ্যা হতে বন্ধ পাওয়া গেছে। রাত অনুমানিক ৮টার সময় তানভীরের মায়ের ব্যবহত ফোন নাম্বারে কল দিলে তার বাবা রিসিভ করেন এবং তার মায়ের সাথে কিছুতেই কথা বলতে দিচ্ছেননা। অনেকের দাবি অনুযায়ী তানভীর পিএমখালী ইউনিয়নের তার বড় বোনের বাড়িতে আশ্রিত আছেন। কিন্তু ঘটনার প্রেক্ষিতে তোতকখালী গ্রামের নুরুল আবছার নামের একজন সচেতন ব্যক্তি জানান, গত কয়েকদিনের ভিতর তাদের এলাকায় নতুন কেউ আসেনি। তানভীরের বড় বোনের বাড়ি আমার চেনা জানা। যদি এমন কোন পরিস্থিতি দেখি অবশ্যই প্রশাসন কে অবগত করবো। আমি সতর্ক আছি এবং এলাকাবাসী ও সজাগ রয়েছে।

একই এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানান, তারা ছেলের কক্সবাজার আসা নিয়ে নাটক শুরু করেছেন। একদিন একেক রকম কথা বলছেন। তারা অশিক্ষিত হওয়ার কারনে হোম কোয়ারাইন্টান কঠিন শাস্তি মনে করে এসব বিষয় গোপন করছে বলে আমাদের ধারনা। আমাদের দাবি তানভীরকে হোম কোয়ারাইন্টানে রাখা হউক এলাকা ও দেশের স্বার্থে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তেক্ষেপ কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •