শাহেদ মিজান, সিবিএন:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সাথে লুডু খেলেই আক্রান্ত হলেন আরেক যুবক। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) চকরিয়া উপজলোয় করোনা সনাক্ত চারজনের একজন এই যুবক। ২৭ এপ্রিল উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কাছারি পাড়া এলাকার করোনা সনাক্ত গার্মেন্টকর্মীর সাথে লুডু খেলেছিলেন তিনি। ওই গার্মেন্টকর্মীর ভাইয়ের এক বন্ধু এই প্রতিবেদককে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২৭ এপ্রিল সনাক্ত ওই গার্মেন্টকর্মীর সম্পর্কে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ শাহবাজ জানিয়েছিলেন, গত ওই ৮ এপ্রিল তিনি চট্টগ্রাম থেকে তিনি বাড়িতে আসেন। এর কয়েকদিন পর তিনি জ্বর ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন। বিষয়টি জানার পর ২৬ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ২৯ এপ্রিল ওই গার্মেন্টকর্মীর পিতারও করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে।

ওই গার্মেন্টকর্মীর ভাইয়ের ভাষ্য মতে, ওই গার্মেন্টকর্মী বাড়িতে আসার পর থেকে এলাকার বন্ধু এবং সময় বয়সীদের সাথে উঠবসা করতেন। এমনকি তারা বন্ধুরা মিলে ‘সময় কাটানো’র জন্য নিয়মিত মোবাইল ফোনে লুডু খেলতেন। এর মধ্যে ওই গার্মেন্টকর্মীর করোনা সনাক্ত হওয়ায় তার সংস্পর্শে আসাদের নমুনা করা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল একজনের পজেটিভ এসেছে। লুডু খেলার মাধ্যমেই ওই গার্মেন্টকর্মীর কাছ থেকে এই যুবক সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে তার সংস্পর্শে আরো অনেকে করোনা আক্রান্ত হতে পারে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কারণ ওই যুবক পুরো এলাকা ঘুরেছে। অনেকে তার সংস্পর্শে এসেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে শুরু হওয়া টেস্টে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১২৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তারমধ্যে, ৪২ জনের রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৬ জন কক্সবাজার জেলায় এবং ৫ জন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ও একজন বান্দরবান সদর উপজেলার বাসিন্দা।এর মধ্যে রামুর এক মহিলা মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ মার্চ সনাক্ত হওয়া কক্সবাজার জেলার প্রথম করোনা রোগী খুটাখালীর মুসলিমা খাতুনের শরীরের স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছিলো ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে। তিনি সুস্থ হয়ে গত ৮ এপ্রিল বাড়িতে ফিরেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •