বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৫ টি জেলার ১০২ টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে WFP এর অর্থায়নে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এ প্রোগ্রামের আওতায় প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন ৭৫ গ্রামের ১ প্যাকেট করে উচ্চ পুষ্টি সমৃদ্ধ বিস্কুট পায়। আমার জানামতে, প্রতিটি স্কুলে প্রায় ১ মাসের বিস্কুট মজুদ আছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিপুল পরিমাণ বিস্কুট মজুদ থাকা অবস্থায় গত ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষনা করা হয়। ২য় ধাপে ১ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ৩য় ধাপে ১৫ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ৫মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল থেকে ২৮ মে পর্যন্ত পবিত্র রমজান উপলক্ষে স্কুল বন্ধ থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বিস্কুটগুলোর মেয়াদ থাকে উৎপাদনের তারিখ থেকে ৬ মাস বা ১ বছর। এ দীর্ঘ বন্ধের সময় হয়তো বিস্কুটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক স্কুলে বিস্কুট সংরক্ষণের ভালো ব্যবস্থা নেই। ইদুরের উৎপাত থাকলে ইঁদুর বিস্কুট নষ্ট করে ফেলতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিস্কুটের প্যাকেট নষ্ট হয়ে বিস্কুটও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিস্কুটের মেয়াদ শেষ হলে বা কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলে এগুলো আর খাওয়ার উপযোগী থাকবে না। তখন হাজার হাজার প্যাকেট বিস্কুট ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তাই খাদ্য সংকটের এমন দুর্দিনে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শিশু খাদ্য হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিস্কুটগুলো বিতরণ করলে অনেক ভালো হবে বলে মনে করি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

মুহাম্মদ রবিউল হোছাইন
প্রধান শিক্ষক
কায়দাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মহেশখালী।
01713 614 718

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •