পূর্ব-পশ্চিম :

রাজধানীর ভাটারা থানার নতুন বাজার এলাকায় ওষুধ কিনতে গিয়ে ফার্মেসিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এক ব্যক্তি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই ফার্মেসিতে ঢুকে ওষুধ কেনার সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকেন তিনি। এ সময় ফার্মেসিতে উপস্থিত লোকজন তাকে পানি পান করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। লাশও পড়ে থাকে কিছু সময়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি ইউনাইটেড সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মচারী আবদুর রশীদ (৪৫) বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আবদুর রশীদ নিজের জন্যই ওষুধ কিনতে ওই ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন বলে দোকানের ওষুধ বিক্রেতা জানিয়েছেন। একজন চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবদুর রশীদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করা এবং তা পরীক্ষা করাসহ অন্যান্য কাজগুলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

আরেক এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ভাটারা থানার নতুন বাজার ১৬০ ফিট রাস্তার বিগ ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ওষুধ কিনতে আসেন ওই ব্যক্তি। ওষুধ নেওয়ার জন্য দোকানের কাউন্টারের সামনে দাঁড়ান। তবে ওষুধ কেনার আগেই দোকানের সামনে লোকটি ছটফট করতে থাকেন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাসপাতাল নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে কোথাও নেওয়ার আগেই প্রাণ হারান তিনি।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আবদুর রশীদ হার্টের রোগী ছিলেন। সকালে মোহাম্মদপুরে চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এসে তিনি নতুন বাজারের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান। সেখানে বিক্রেতাকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ওষুধের দাম জিজ্ঞেস করেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাৎক্ষণিক তার মৃত্যু হয়।’

ওই ফার্মেসি থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ আবদুর রশীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ওসি আরও জানান, আওছাবুর রহমান নামে মৃত ব্যক্তির একজন সহকর্মী জানিয়েছেন যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ গত এক বছর ধরে রাজধানীতে নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজ করে আসছিলেন।

এদিকে ফার্মেসিতে আবদুর রশীদের পড়ে থাকা লাশের ছবি মুহূর্তে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •