শাহেদ মিজান, সিবিএন:

করোনা ভয়াবহতার এই সময়েও রামু উপজেলার দক্ষিণ চাকমারকুল নতুন চরপাড়ায় (ফুয়ারচর) বিপুল শ্রমিক জমায়েত করে অবৈধভাবে বালু তুলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জিয়াউল সওদাগরের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শ্রমিক জমায়েত করে করোনা ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন বালু উত্তোলন করছে। এতে ওই শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন চরম করোনা ঝুঁকি মুখে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন নিষেধ করলে উল্টো তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে জিয়াউল সওদাগরের লোকজন।

স্থানীয় লোকজন জানান, ওই এলাকার জিয়াউল সওদাগরে নেতৃত্বে একটি দীর্ঘদিন সরকারি খাস থেকে (ইজারাহীন) দীর্ঘ দিন বলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতিদিন অনেক  শ্রমিক দিয়ে স্কেভেটর দিয়ে বিপুল পরিমাণ বাল তুলে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ডাম্পার গাড়ি বালুগুলো পাচার করছে। এভাবে সরকারি জমির বালু বিক্রি করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিচ্ছে জিয়াউল সওদাগর।

অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আশেপাশে ফসলি, মসজিদ, বিদ্যুতের খুঁটি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি পাশাপাশি পরিবেশেরও চরম বিপর্যয় হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে জিয়াউল সওদাগরের পুত্র জোবায়েরর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো দেশ লকডাউন চলছে। জমায়েত বন্ধ রাখতেই লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এতে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাজনিত কারণে মানুষের সব ধরণের কর্মকান্ড বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এমন ভয়াবহতার মধ্যেও প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক শ্রমিক এনে জিয়াউল সওদাগর বালু উত্তোলন করছে। এতে ওই শ্রমিকেরা চরম করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের কারণে পার্শ্ববর্তী লোকজনও করোনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, লকডাউনে নিরাপত্তার হুমকির মুখে পড়ায় বালু উত্তোলন করতে জিয়াউল সওদাগরকে নিষেধ করেছে স্থানীয়রা। কিন্তু তিনি উল্টো লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এসময় তিনি লোকজন বলছে, উপজেলা অফিসে টাকা দিয়েই তিনি বালু উত্তোলন করছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জিয়াউল সওদাগর প্রথমে বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করেন। তবে পরে স্বীকার করেন এবং বন্ধ করে রাখবেন জানান।

এ ব্যাপারে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, ‘লকডাউন না মেনে বালু উত্তোলনের কথা আমি জেনেছি।  তিনি উপজেলা অফিসকে টাকা দেয়ার কথা বলেছেন এটা একান্ত তার কথা। এই ঘটনার আজকের মধ্যেই (বুধবার) ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •