ঢাকা ট্রিবিউন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাডায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে তালপাতার ঝুপড়িতে “কোয়ারেন্টিনে” রাখার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসিন উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. জাকারিয়া ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রামের একটি নির্জন পুকুরের পাশে তালপাতা দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে “হোম কোয়ারেন্টিনে” রাখার খবর সোমবার ঢাকা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের পরই বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের। এদিন বিকেলেই পুলিশের সহযোগিতায় ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে ঝুপড়িঘর থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে হোমকোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেন ইউএনও এস এম মাহফুজুর রহমান। একইসঙ্গে ভেঙে ফেলা হয় ঝুপড়িঘরটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান মহসিন উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তিন কার্য দিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মাঠে নেমেছে। অভিযুক্তরা প্রশাসনের অগোচরে ওই নারীকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে যে, “তিনি নিজের ইচ্ছায় তালপাতার ঝুপড়িঘরে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। কেউ তাকে বাধ্য করেনি।”

এ বিষয়ে জানতে নিগ্রহের শিকার ওই স্বাস্থ্য কর্মীর সঙ্গে মঙ্গলবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার ইমপালস হাসপাতালের চিকিৎসকের অ্যাটেনডেন্ট পদে চাকরি করেন ওই নারী। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ওই স্বাস্থ্যকর্মী কোটালীপাড়া উপজেলার লখন্ডা গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে এলাকাবাসী একটি নির্জনস্থানে পুকুরপাড়ে তালপাতা দিয়ে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

গত ১ সপ্তাহ ধরে রোদ-বৃষ্টিতে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যেও সেখানেই থাকতে হয় তাকে। বিষয়টি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার উপজেলাব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ইউএনও এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, “অমানবিক এ ঘটনায় যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ওই স্বাস্থ্যকর্মীর ঘরটি জরাজীর্ণ। ঘরটি আমরা সংস্কার করে দেব।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •