• এম,ডি,ম্যাক্স

ঢাকার অধিবাসী আমির আসিফ বাংলাদেশের শীর্ষ মাফিয়া ডন, তার রয়েছে বিশাল বাহিনী এমনকি তার পক্ষে পুলিশ ফোর্স কাজ করে থাকে।

বিলাসবহুল বাড়ি, সবসময়ই অস্ত্র হাতে বডিগার্ডরা তাকে পাহারা দেন,আছে হোয়াইট হাউসের মত বিশাল অট্টালিকা, সেখানে চলে জুয়ার ও মদের আসর।

হত্যা, মাদক, চোরাচালানী অপহরণ এমন কোন অপরাধ নেই তিনি করেন না।

মানুষ অপহরণ করে তিনি মুক্তিপণ দাবি করেন।

তিনি চাইলে যেকোনো সময় দেশের প্রত্যেকটি বর্ডার, নৌপথ, এয়ারপোর্ট সব বন্ধ করে দিতে পারেন। তার সাথে কেউ পেরে উঠেন না, আর তাকে সবাই ভয় পায়।

কিছুদিন আগে তিনি সুদুর মুম্বাইয়ের এক মাফিয়া ডনের পুত্র সন্তান অভি মহাজনকে অপহরণ করে নিয়ে আসেন ঢাকায় ।

ওই ধন্যাঢ্য মহাজন’ অস্ট্রেলিয়ার দুধুর্ষ কন্ট্রাক উদ্ধারকারী টেইলরকে অভিকে উদ্ধারের জন্য ঢাকায় পাঠান।আসিফের নেটওয়ার্ক এতই শক্তিশালী যে, টেইলর ঢাকায় আসার সাথে সাথে অপহরণ হয়ে যান।

পাঠকবৃন্দ আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি এতক্ষণ কিসের কথা বলছি।

হ্যাঁ নেটফ্লিক্সের সাড়াজাগানো হিট মুভি এক্সট্রাকশন এর কথাই বলছিলাম। শুরতেই নেটফ্লিক্স কে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ তথা ঢাকাকে বিশ্বের কাছে আরও পরিচিতি করে দেওয়ার জন্যে।

বর্তমানে নেটফ্লিক্সের টিভি সিরিজ এবং চলচ্চিত্রগুলো সারা পৃথিবীতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ঢাকা কে নিয়ে কাহিনীর আবর্তন আমাদের জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়।

2020 সালে মুক্তি পাওয়া এক্সট্রাকশন মুভির কাহিনী এরকমই, যে এক জেল আটক মাফিয়া ডনের সন্তানকে মুক্তিপণ দাবি আদায়ের জন্য বাংলাদেশের মাফিয়া ডন আসিফ অপহরণ করে নিয়ে আসেন।

তাকে উদ্ধারের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত অভিনেতা, ক্রিস হেমরসথ ঢাকায় উদ্ধার অভিযানে চলে আসেন।

ঢাকার অলিতে গলি, পচা

নালা-নর্দমা মুভির অধিকাংশ শুটিং হয়।

ঢাকায় কোন বিদেশি চলচ্চিত্রের এটি সবচেয়ে বেশি বাজেটের মুভি বলা যায়।

কারণ এই চলচ্চিত্রটি করতে খরচ হয়েছে প্রায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৪০ কোটি টাকা।

তবে এই মুভিটা তে কতগুলো দুঃখজনক ব্যাপার ঘটেছে যেমন আমাদের এখানে শিশুশ্রমকে দেখানো হয়েছে, এমনকি শিশুদের হাতে অস্ত্র, তাদেরকে গুলি করতেও দেখা গিয়েছে।

আরো দুঃখজনক ব্যাপার হল, বাংলাদেশের ঢাকায় শুটিং হলেও একজন অভিনেতা ও বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়নি।

সুলতানা কামালের ব্রিজের দৃশ্য, ঢাকার অলিগলি, ঢাকার অপাংক্তেয় হওয়া বাড়ি সব নিখুঁতভাবে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে।

অভিনেতা ক্রিসের তার মুখে, ‘প্রমাণ দাও’ শব্দটির বাংলা শুনে নেটিজেনরা এটি নিয়ে সোসাইল মিডিয়ায় অনেক মজা করছেন।

আবার ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখে খানকির পোলার মত শব্দগুলো বলতে শোনা গিয়েছে।

হেলিকপ্টার দিয়ে অপারেশন, ব্রিজ ভেঙে ফেলা, শত শত গাড়ি উল্টে দেওয়া এ ধরনের শুটিং এর দৃশ্য সমগ্র বাংলাদেশে এই প্রথম।

সারা পৃথিবীতে ব্যবসাসফল এই মুভির সিকুউলের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন।

ঢাকায় আসিফের আস্তানা চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার অভিজাত বাড়িতেই সারারাত চলে মদ জুয়া আর ক্যাসিনো।

আসিফের দাপটে অনেক বিদেশী পর্যন্ত ভয়ে তটস্থ থাকেন।

নেটফ্লিক্সের এক্সট্রাকশন মুভি ইংল্যান্ডে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে মানি হাইস্ট এর উপরে আছে।

করোনা ভাইরাস এর এই দিনে বাসায় বসে বসে কি আর করা আজই দেখে ফেলুন ডাউনলোড করে, সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, টরেন্টে।

আমাদের বাংলা সাবটাইটেল মেকারের তারকারা, যারা দিনে রাতে অক্লান্ত পরিশ্রমে সাব তৈরি করেন, ইতিমধ্যে এটির অনেক বাংলা সাবটাইটেল করেছেন।

বুঝতে না পারলে এই বাংলা সাবটাইটেল দেখেই চলচ্চিত্রটি উপভোগ করতে পারেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •