শাহেদ মিজান, সিবিএন:

৩৯ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) এ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চার মাস আগে প্রথম কর্মস্থল হিসেবে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিয়েছিলেন কক্সবাজারের প্রথম করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক নাঈমা সিফাত (২৮)। করোনার কঠিনকালেও দায়িত্বরত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি:বিভাগে। যোগদানের পর থেকে তিনি ছুটিতেও যাননি। বিগত একমাস আগে ঢাকা থেকে তার স্বামীই সর্বশেষ টেকনাফে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের অন্যসব করোনা সনাক্তরা বহি:গমনকারী। কিন্তু এই চিকিৎসক বহি:গমনকারী নয়, তার স্বামীর সর্বশেষ আগমণও এক মাস আগে; তাহলে এই চিকিৎসক কিভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন, কার শরীর থেকে তাকে সংক্রমণ করেছে? এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন খোদ কক্সবাজার জেলা ও টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

তবে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল বলছেন, চিকিৎসা গিতে গিয়ে কোনো রোগী থেকে চিকিৎসক নাঈমা সিফাতের শরীরে করোনা সংক্রমণ হয়েছে। তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অনেক কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। সব মিলে রোগী থেকে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টির গ্রহণযোগ্য মনে করা হচ্ছে।

ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, চিকিৎসক নাঈমা সিফাত যেহেতু বাইর থেকে আসেননি। তাঁর স্বামীর আগমণও একমাস পেরিয়ে গেছে। তবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি বহিঃবিভাগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রোগী থেকে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন তিনি।

তাহলে করোনা আক্রান্ত সেই রোগী কোথায়? এটিই এখন আরো বড় আতঙ্কের বিষয়! কেননা ইতোমধ্যে টেকনাফে অন্য দুইজন ব্যক্তি করোনা সনাক্ত হয়েছেন। এই দু’জনের সংস্পর্শে আসেনি এই নারী চিকিৎসক। তাহলে অন্য কেউ না কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে ঘুরছে টেকনাফের কোনো স্থানে যার থেকে এই চিকিৎসক সংক্রমিত হয়েছেন! এখন সেই ‘তাকে’ নিয়ে বেশ চিন্তিত স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই কথা বলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল।

তিনি বলেন, নতুন চিকিৎসক নাঈমা সিফাত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃ বিভাগের রোগী দেখতেন। স্বাভাবিক নিয়মে বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নাম এন্ট্রি করা হলেও ঠিকানা নেয়া হয় না। তাহলে করোনা আক্রান্ত ওই ‘অদৃশ্য’ রোগীকে কিভাবে সনাক্ত করবো? তাকে খুঁজে বের করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়! তার চেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে, তিনি হয়তো এখনো স্বাভাবিকভাবে টেকনাফের কোথাও ঘুরছেন। এতে তার মাধ্যমে আরো বহু মানুষ সংক্রমিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মোঃ মাহবুুবুর রহমান সিবিএনকে বলেন, চিকিৎসক নাঈমা সিফাত কোনো করোনা রোগী থেকে সংক্রমিত হয়েছে সেটা নিশ্চিত। কিন্তু সেই রোগী কোথায়? সেটা এখন বড় কথা। স্বাভাবিকভাবে দেখা যাচ্ছে সে নিশ্চয়ই সমাজে অবস্থান করছে। তবে আমরা আরো নমুনা সংগ্রহসহ স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মতে, টেকনাফে করোনা রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত চিকিৎসক ডা. নাঈমা সিফাত এর স্বামী একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের একটা শিশু কন্যা সন্তান রয়েছে। ডা. নাঈমা সিফাত চট্টগ্রাম শহরের পাচলাইশের বাসিন্দা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •