মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

রোববার ২৬ এপ্রিল করোনা রোগী সনাক্ত হওয়া টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ডাক্তার তার মত পরিবর্তন করেছেন। তিনি তার নিজের করোনা চিকিৎসা করার জন্য চট্টগ্রাম ফৌজদার হাটের বিআইটিআইডি-তে রওয়ানা হওয়ার পর আবার টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কোয়ার্টারে চলে এসেছেন। সেখানে তিনি আপাতত সেল্ফ আইসোলেসনে থাকবেন।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুব রহমান সিবিএন-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত মহিলা চিকিৎসকের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে উক্ত মহিলা চিকিৎসককে সরকারি এম্বুলেন্স দিয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম ফৌজদার হাটের বিআইটিআইডি-তে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। পরে সিভিল সার্জন টেকনাফ থেকে কক্সবাজার চলে পর টেকনাফে করোনা আক্রান্ত মহিলা চিকিৎসক তার মতামত পরিবর্তন করে তাঁকে ফোন দিয়ে রোববার দিবাগত রাতে তিনি টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজ কোয়ার্টারে সেল্ফ আইসোলেসনে থাকবেন বলে জানান। তারপরও করোনা আক্রান্ত মহিলা চিকিৎসককে সোমবার সকাল পর্যন্ত তার করোনা চিকিৎসার বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিয়েছি।

টেকনাফের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত মহিলা চিকিৎসক ডা. নাঈমা সিফাত (২৮) এর স্বামী একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের একটা শিশু কন্যা সন্তান রয়েছে। ডা. নাঈমা সিফাত চট্টগ্রাম শহরের পাচলাইশের বাসিন্দা। তিনি টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত জরুরি বিভাগ, আউটডোর, ভর্তিকৃত রোগী সহ হাসপাতালে সব জায়গায় রোগী দেখতেন। তিনি ৩৯ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সদস্য।

গত ২৪ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯ জন চিকিৎসক, ১৬ জন নার্স, ২৮ জন কর্মচারী সহ মোট ৫৩ জনের স্যাম্পল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে টেস্টের জন্য পাঠানো হলে ২৬ এপ্রিল ডা. নাঈমা সিফাত এর টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, এই প্রথম কক্সবাজার জেলায় একজন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলো। রোববার পর্যন্ত কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট ১৫ জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •