মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে করোনা জীবাণু ধরা পড়া তাবলীগ ফেরত আবু ছিদ্দিক (৭০) সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর বাড়ির অন্যন্য সদস্য থেকে আলাদা হয়ে থাকছেন। হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কোয়ারান্টাইন পিরিয়ড ১৪ দিন এখনো পূর্ণ না হওয়ায় তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে নিজ বাড়িতেই আলাদা করে থাকতে হচ্ছে। তবে আবু ছিদ্দিকের বাড়িতে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা কারো শরীরে গত ১০ দিনে করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ দেখা যায়নি। ২৬ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে হাসপাতালের এম্বুলেন্স করে স্বাস্থ্য কর্মী সহ তার বাড়িতে পৌঁছেন। সুস্থ হওয়া করোনা রোগী আবু ছিদ্দিক সিবিএন-কে জানান, তিনি এখন চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো সবকিছু মেনে চলবেন। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন জানান।

এর আগে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেসন ইউনিট থেকে রিলিজ করা হয়েছে। রোববার ২৬ এপ্রিল বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ.জেড.এম সেলিম সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

আবু ছিদ্দিকের শরীরে গত ১৬ এপ্রিল করোনা ভাইরাস জীবাণু সনাক্ত করা হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে তার দ্বিতীয় বার স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট শুক্রবার ২৪ এপ্রিল নেগেটিভ পাওয়া যায়। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে তার স্যাম্পল টেস্ট করা হয়।

আবু ছিদ্দিক হচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে স্যাম্পল টেস্ট করে প্রথম পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া করোনা ভাইরাস রোগী। একইভাবে বান্দরবান জেলারও আবু ছিদ্দিক প্রথম করোনা রোগী ছিলো।

আবু ছিদ্দিক নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে জিরো পয়েন্টের কোনার পাড়ার মৃত মোখলেসুর রহমান এর পুত্র। গত ১৬ এপ্রিল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে স্যাম্পল টেস্টে তার শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়ে।

উক্ত করোনা রোগী তাবলীগে লম্বা চিল্লা দিতে গিয়ে দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন। সেখানে তাবলীগে থাকাবস্থায় উক্ত করোনা রোগী করোনা স্বাস্থ্য নির্দেশনা মোটেও মানেননি। গত ৬ এপ্রিল তাবলীগ জামাতের চিল্লা শেষে করোনা রোগী আবু ছিদ্দিক নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধমের নিজ বাড়িতে আসেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •