এম ডি ম্যাক্স

জর্জ অরওয়েল এর লিখা ‘১৯৮৪’ বইটির কথা মনে আছে? স্বেরাচারী শাসন, মজার চুল কাটা, আর রাসায়নিক অস্ত্র , এই বইটির সাথে একটি দেশেরই মিল পাওয়া যায়, তা হলো উত্তর কোরিয়া।

অনেক বছর ধরে উত্তর কোরিয়া একটি রুক্ষ দেশ, যেটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন স্বৈরশাসক, বাবার কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতা, আর কিম তার বাবার চেয়েও কড়াভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন।

আর আপনারা জানেনই উত্তর কোরিয়ার শক্তি এই রাসায়নিক অস্ত্র, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান আর সুদুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেকে এই বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি প্রায় সময়।

আর ব্যাক্তিগত ভাবে তিনি কোটি ডলারের মালিক, এই দেশের অনেক টাকা, কিন্তু তা শুধু একজনের পেছনেই ব্যয় হয়,তাদের নেতা কিম জং উন।

কিমের রয়েছে ব্যক্তিগত প্রমোদ তরী, একটি দ্বীপ, আর তার বিলাসবহুল জীবনের জন্যে অনেক অর্থ, যার অনেকাংশ ব্যয় হয় তার পরিবারের সদস্যদের খুজে হত্যা করার পেছনে।

তার ব্যাক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার, তার এই উপার্জন অবৈধ ভাবে, চীনের সাথে ব্যাবসা করে, জালিয়াতি আর ক্ষমতার জোরে।

উত্তর কোরিয়া কে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হলেও, চীনে কয়লা রপ্তানি করে তিনি অনেক টাকার মালিক। অস্ত্র ব্যাবসা, সাইবার এটাক, মাদক আর জোরপূর্বক শ্রমিক দিয়ে তার অনেক আয় হয়।

যেখানে উত্তর কোরিয়ার অধিকাংশ জনসাধারণ দারিদ্রতার কষাঘাতে মারা যাচ্ছেন, সেখানেই কিম তার ব্যক্তিগত বিমান দিয়ে ব্যক্তিগত দ্বীপের মধ্যে আনন্দ ভ্রমণ করছেন।

তার জন্য আর আমদানি করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মদ আর অ্যালকোহল।

দেশের বাজেটের অর্ধেক টাকা সেনাবাহিনী আর বোমা তৈরিতে ব্যয় হয়।

অথচ গড়ে একজন উত্তর কোরিয়া মানুষের ইনকাম হচ্ছে বৎসরে ১ থেকে মাত্র ২ হাজার ডলার।

কিমের এই অর্থ-সম্পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর চেয়েও বেশি

কিমের প্রিয় পানীয় হচ্ছে হুইস্কি আর ভোদকা, যে অর্থনীতি দিয়ে তিনি দেশকে উন্নত করতে পারতেন সেই সমস্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার নিজের বিলাসবহুল জীবনে, প্রতিবছর কয়েক হাজার বোতল অ্যালকোহল তার দরকার হয়।

উত্তর কোরিয়ার রাজধানীর অদূরে প্রায় ৭০ মাইল মত জায়গা তার বিলাসবহুল জীবনের জন্য রাখা হয়েছে।

কিমের ব্যক্তিগতভাবে যে প্রমোদতরী রয়েছে তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট এবং এদের বাংলাদেশে মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

কথিত আছে যে কিম নাকি মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গাড়ি চালা শিখেছিলেন এবং তার কাছে প্রায় ১০০ টি দামী কার কার আছে।

তাছাড়া কি কিমের ব্যক্তিগত একটি সিনেমা হল আছে যেখানে ১০০০ মানুষ একসাথে বসে সিনেমা দেখতে পারবে, এটি তৈরিতে খরচ পড়েছে প্রায় 2 লক্ষ মার্কিন ডলার।

যেখানে উত্তর কোরিয়ার একজন লোক ৪০০ গ্রাম এর নিচে খাবার খেতে পাই না সেখানে কিমের একেকটি সিগারেটের প্যাকেটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০০০ টাকা।

কিম তার নিজের জন্য একটি দীর্ঘজীবী ইনস্টিটিউশন গঠন করেছেন যেখানে প্রতিদিন ১৩০ জন ডাক্তার তার দেখভাল করেন।

কিম তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে শুধু একটি ছোট ব্যাগ উপহার দিয়েছেন যেটির দাম বাংলাদেশি মূল্য ২ লক্ষ টাকা আর তার স্ত্রীর জন্য অন্তবাস কিনতে ব্যয় করেছেন এ পর্যন্ত প্রায় 3 মিলিয়ন ডলার।

অথচ অবাক করা তথ্য হলো তিনি এতই জোর করে উত্তর কোরিয়ার মানুষকে শ্রম কাটান যে অধিকাংশ মানুষই সূর্যের আলো দেখতে পাই না।

একথা সত্য যে কিম কোন জায়গায় থাকেন কেউ তা বলতে পারে না কারণ অনেকের মতে তার ভিন্ন ভিন্ন ১৭ টি বিলাসবহুল প্রাসাদ আছে।

কিমের সংগ্রহে অনেক দামী দামী পিয়ানো আছে শোনা যায় একটি পিয়ানোর দাম প্রায় ৬৩ হাজার ডলার মত হতে পারে।

শুধু ব্যক্তিগত বিমান নয় কিমের রয়েছে একটি প্রাইভেট রানে ওয়ে।

যেখানে উত্তর কোরিয়ার লোকজন কোনরকমে খেয়ে বেঁচে থাকে সেখানে কিমের রয়েছে প্রায় 35 মিলিয়ন ডলারের স্কী রেজোর্ট ।কথিত আছে যে তার এই রিসোর্ট গুলোতে নিজের বিনোদনের জন্যে প্রায় শিশুশ্রমকে ব্যবহার করা হয়।

কিম বাস্কেটবলের খুবই ভক্ত এমনকি, বাস্কেটবলের কিংবদন্তিকে রডম্যান অনেক টাকায় উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ এনেছিলেন।

কিমের আরেকটি শখের সংগ্রহ হলো ঘোড়া, এমনকি এই ঘোড়া গুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের বাজেটের ২০% খরচ হয়।

কিমের এক একটি গাড়ির দাম পড়ে প্রায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি টাকা।

কিমের রয়েছে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় কয়েক হাজার দেহরক্ষী যারা তার গাড়ির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে তাকে সঙ্গ দেয়,মজার ব্যাপার হল এই সমস্ত দেহরক্ষীদের উচ্চতা কিন্তু কিমের উচ্চতার চেয়েও বেশি হতে পারবে না, তাদের উচ্চতা হতে হবে ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির মধ্যে।

শুধুমাত্র কিমের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে প্রায় 90 হাজার সদস্যের সেনাবাহিনীর একটি দল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •