মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত ১৪ জন রোগীর প্রত্যেকেই বিদেশ ও জেলার বাইর হতে তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু সংক্রামিত করে কক্সবাজার এসেছে। তাদের কেউই কক্সবাজারে অবস্থান করে স্থানীয়ভাবে করোনা ভাইরাস জীবাণুতে আক্রান্ত হয়নি।

করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হওয়া ১৪ জন রোগীর কেস হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে তাদের চিকিৎসকগণ সেটা নিশ্চিত হয়েছেন।

কক্সবাজার জেলায় প্রথম করোনা ভাইরাস জীবাণু সনাক্ত করা হয় গত ২৪ মার্চ মুসলিমা খাতুন নামক এক মহিলার স্যাম্পল টেস্টে। তিনি সৌদি আরবে উমরা হজ্জ্ব করতে গিয়ে গত ১৩ মার্চ দেশে ফিরেছেন। পরে অসুস্থ হয়ে মুসলিমা খাতুন ১৮ মার্চ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে তার স্যাম্পল ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো হলে ২৪ মার্চ তার ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট আসে। মুসলিমা খাতুন (৭৮) পরে সুস্থ হয়ে গত ৮ এপ্রিল চকরিয়ার খুটাখালীর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

বাকী ১৩ জনের সকলেই ‘করোনা রেড জোন’ এলাকা ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও সাতকানিয়া থেকে কক্সবাজার জেলা লকডাউন (Lockdown) চলাবস্থায় প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কক্সবাজার এসেছে।

শুক্রবার ২৪ এপ্রিল স্যাম্পল টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ আসা মহেশখালীর ৫ জনের
৩ জন পান বিক্রি করতে ঢাকায় যত্রতত্র ঘুরেছে। ১ জন চট্টগ্রামে চাকুরী করতেন। ১ জন সাতকানিয়া থেকে পালিয়ে এসেছেন।

শুক্রবার ২৪ এপ্রিল স্যাম্পল টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ আসা কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরার আবু বকর ছিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে আবু ছৈয়দের পুত্র শাহ আলম (৪৩) নারায়ণগঞ্জ থেকে গত ২০ এপ্রিল কক্সবাজার এসেছে। গত ২২ এপ্রিল শহরের টেকপাড়ায় করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়া আবুল কালামের সাথে একই গাড়িতে করে নারায়নগঞ্জ থেকে আসে। সে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকের চাকুরী করত।

শুক্রবার ২৪ এপ্রিল স্যাম্পল টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ আসা অপর রোগী নুরুল আলম (২২)। তার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিটাপানির ছরা তুলাতলী গ্রামে। কাঁচা আম ব্যাবসায়ী নুরুল আলমও গত এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসেছে বলে জানা গেছে।

গত ২৩ এপ্রিল করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়ে টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের খারাইঙ্গাঘোনার তাবলীগ ফেরত মোহাম্মদ ইদ্রিস (৪২) এর শরীরে। ৪ মাসের তাবলীগের চিল্লায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছে সে।

টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রোডের নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মৃত এজাহার আহমদের পুত্র আবুল কালাম (৫৫) এর দেহে গত বুধবার ২২ মার্চ করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়ে। সে নারায়ণগঞ্জে মাছের ব্যবসা করে।

১৯ এপ্রিল রিপোর্ট পজেটিভ আসা
মহেশখালী উপজেলার ৩ জন হলো শাপলাপুর ইউনিয়নের-মুকবেকী এলাকার মোঃ বশিরের পুত্র ঢাকার একটি গার্মেন্টসের কর্মী মোঃ রায়হান (২৪) এবং অপরজন মুরুং ঘোনা এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র আবু হানিফ (১৭), সে ঢাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মিয়াজি পাড়ার হালিমা সাদিয়া (২৫), সে ঢাকায় গৃহকর্মী ছিলো।

টেকনাফের বাহারছরা ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের মারিশবনিয়া গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর পুত্র মো: হোছাইনের করোনা ধরা পড়ে গত ১৯ এপ্রিল। সে ঢাকা থেকে গত ৬ এপ্রিল কক্সবাজার এসেছে।

দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তখন থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে কেউ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •