কুতুব উদ্দীন

বৈশ্বিক এই মহাক্রান্তিকালে করোনা ভাইরাস একটি মহাবিপর্যয়ের নাম। এটি একটি সংক্রমিত ছোঁয়াছে ব্যাধি। সাধারণত এই রোগ সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা, অসতর্কতা, অসাবধানতা, অবহেলা অপরিচ্ছন্নতাসহ,সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখা, সর্বোপরি রোগ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারী নির্দেশনা অমান্য করার কারণেই এই রোগের বিস্তার লাভ করছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়া মানেই মৃত্যু অনিবার্য নয়। সারা বিশ্বে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার মাত্র (২-৩)% আর সুস্থতার হার প্রায় (৮০-৯০)% সুতারাং আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিরোধই এই রোগের একমাত্র প্রতিষেধক। রোগবালাইতে মানুষ যেকোন সময় যেকোনভাবে আক্রান্ত হতেই পারে। তেমনিভাবে এইসময়কালে যেকোন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। কেউ যদি আক্রান্ত হয়, তাঁর সুস্থতার জন্য আমাদের সবারই তাঁকে মানসিকভাবে সহযোগীতা করা উচিত। যেহেতু এই রোগ ছোঁয়াছে তাই সামাজিক এবং শারীরিকভাবে তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। করোনায় আক্রান্ত হওয়া মানে একজন মানুষ নরকের কীট হয়ে যাওয়া না। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে আমরা দেখতে পাই যে, একজন মানুষের করোনা পজিটিভ হলেই এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন আক্রান্ত ব্যক্তি নরকের কীট এবং আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা একটা নৈতিক দায়িত্ব! এটা কেমন হীনমন্যতা? রোগবালাই মানুষের হবেই আর সেটা থেকে মানুষকে আরোগ্যলাভে সহযোগীতা করাই মনুষ্যত্বের পরিচয়। মনে রাখা উচিত রোগবালাই বলে কয়ে আসেনা। আজ আমার তো কাল আপনারও হতে পারে। তাই আসুন আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে, তাঁকে সুস্থ হতে মানসিকভাবে সহযোগীতা করি এবং এই মহামারি প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করি। তাই পরিশেষে আবারও বলি রোগীকে নয়, রোগকে প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন।

লেখক: সহকারী রেজিস্টার, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •