সংবাদদাতা:

পরকিয়ায় আসক্ত উখিয়া আকতার মিয়া ও টেকনাফের আনার কলি নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আকতার মিয়ার স্ত্রী ও আনার কলির স্বামীর দাবি তাদের দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সে সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা পালিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে। নিরুদ্দেশ হওয়া আকতার মিয়া এক সন্তানের জনক ও আনার কলি দুই সন্তানের জননী। তবে আনার কলি তার জীবিত কন্যা সন্তানকে স্বামীর কাছে ফেলে গেছেন। অন্যদিকে আকতার মিয়ার স্ত্রী পিতা-মাতাহীন তফুর বেগম চরম দুর্ভোগে পড়ে গেছেন। একইভাবে আনার কলি স্বামী তার অবুঝ কন্যা সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

জানা গেছে, চার বছর আগে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের চান্ডলী পাড়া গ্রামের আবদুল মাজেদের মেয়ে আনার কলির সাথে ও এই উপজেলার এক শিক্ষিত (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) যুবকের বিয়ে হয়। এই যুবক দাবি করেন, বিয়ের চার বছরে তাদের দুই সন্তানের জন্ম হয়। তবে কোনোভাবে সংসারে শান্তি ছিলো না। সব সময় সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতো আনার কলি। তার কারণ ছিলো বিয়ের আগে তার খালাতো ভাই আকতার মিয়ার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের পরেও তাদের প্রেমের সে সম্পর্ক অব্যাহত ছিলো বলে দাবি করেন আনার কলির স্বামী। সে কারণে সংসারে তার মন বসেনি। বাপের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে পুরনো প্রেমিক আকতার মিয়ার সাথে মিলিত হতো আনার কলি। আর তাতে প্রশ্রয় দিতো আনার কলি মা ও ভাই রুবেল।

অন্যদিকে সাড়ে তিন বছর আগে উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের চাকবৈটা নতুন পাড়া গ্রামের আবদুস সালাম (আনসার ব্যাটলিয়ান সদস্য) এর প্রথমপুত্র আকতার মিয়ার সাথে বিয়ে হয় টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপের কোনারাড়া এলাকার পিতা-মাতাহীন তফুরা বেগমের সাথে। তাদের সংসারে এক সন্তান রয়েছে। আকতার মিয়ার স্ত্রী তফুরা বেগমও দাবি করেন, বিয়ের পরেও আকতার মিয়া ও আনার কলির পরকিয়া সম্পর্ক অব্যাহত ছিলো। এই নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি থাকতো সব সময়।

আনার কলির স্বামী জানান, গত ২৩ মার্চ স্বামীকে না জানিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় আনার কলি। একই দিন নিরুদ্দেশ হয় আকতার মিয়াও। এতে নিশ্চিত দুই পরিবারের লোকজন নিশ্চিত হয় তারা দু’জন পালিয়ে গেছে। তবে ২৯ মার্চ আনার কলিকে ফিরিয়ে আনে তার মা ও ভাই। আনার পর সে বাপের বাড়িতে ছিলো। কিন্তু ৫ মার্চ আবার পালিয়ে যায় আনার কলি। তখন থেকে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আকতার মিয়ার স্ত্রী তফুরা বেগম জানান, ৫মার্চ দ্বিতীয় দফায় পালিয়ে যাওয়ার দুইদিন আগে আকতার মিয়া তার স্ত্রী তফুরা বেগম মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। বাবা-মা বেঁচে না থাকায় নিরুপায় তফুরা বেগম টেকনাফের খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

আনার কলির স্বামী ও আকতার মিয়ার স্ত্রী-দু’জনই দাবি, পরকিয়া আসক্ত আনার কলি এবং আকতার মিয়া পালিয়ে গেছে এবং বিয়ে করেছে। বর্তমানে উখিয়ার কোনো স্থানে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছেন আকতার মিয়ার স্ত্রী তফুরা বেগম। এতে সহযোগিতা করেছে আনার কলির মা ও ভাই রুবেল এবং তাদের এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে আকতার মিয়ার পরিবারও। বর্তমানে তারা আকতার মিয়ার বাবা ও মায়ের প্রশ্রয়ে রয়েছে জানান তফুরা বেগম।

আনার কলির স্বামীর দাবি, আকতার মিয়া একজন চিহ্নি ইয়াবা ব্যবসায়ী। আনার কলির ভাই রুবেল ও আকতার মিয়াসহ কয়েকজনের একটি বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। ইয়াবা ব্যবসা করে অনেক টাকার মালিক হয়ে হয়েছে আকতার মিয়া। সেই টাকার লোভে পড়ে আনার কলি, তার মা ও ভাই রুবেল আকতার মিয়ার পক্ষ হয়ে তাদের পরকিয়ায় প্রশ্রয় দেয়। এমনকি তাদের প্রশ্রয়েই তারা দু’জন পালিয়ে বিয়ে করেছে। এই ঘটনার প্রতিকার চাইতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের শরণাপন্ন হয়েছেন আকতার মিয়া স্ত্রী তফুর বেগম। এই বিষয়ে আইন ব্যবস্থা নিবেন ওসি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও আকতার মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তাই বক্তব্য জানা যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •