শাহেদ মিজান, সিবিএন:

কক্সবাজার শহরের অদূরে ঝিংলজার ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় টিসিবি পণ্য কিনতে বহু মানুষের জমায়েত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই গণজমায়েত সৃষ্টি হয়। ওই এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রিতে প্রায় সময় এমন গণজমায়েত হচ্ছে। এই গণ জমায়েত নিয়ে করোনার ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই গণজমায়েতের ছবি ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিংলজার ইউনিয়নের বাংলাবাজার কাজী অফিসের সামনে টিসিবি ডিলার মেসার্স কাদের এন্টাপ্রাইজের মাধ্যমে ডাল, ছোলা ও চিনি বিক্রি করা হয়। সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন এই পণ্য বিক্রি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার এসব পণ্য বিক্রি খবর পেয়ে সেখানে হুমকি পড়ে ক্রেতারা। শুধু নিম্নবিত্ত নয়; সব স্তরের মানুষ সেখান থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য কিন্ত ভিড় করে। দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বিক্রি করতে ডিলার যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ক্রেতারা অচেতন হয়ে ‘সস্তায়’ পণ্য কিন্ত ভুলে যান করোনা আক্রমণের কথা! ফলে সৃষ্টি এক বিশাল গণ জমায়েত। সেখানে এক সাথে অন্তত হাজারোধিক মানুষ জমায়েত হয়। অধিকাংশরই মুখে মাস্ক ছিলো না বলে জানা প্রত্যক্ষদর্শীরা।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সস্তায় পণ্য কিনতে কার আগে কে কিনবে তা নিয়ে সবাই ভুলে যান করোনা ভাইরাসের কথা। আগত লোকজন আগে কিনতে ভিড় ঠেলে গাদাগাদি করে গাড়ির কাছে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে ন্যূনতম দূরত্ব দূরের থাক; একজনের উপর ঘষাঘষি খায়। এই গণজমায়েত নিয়ে স্থানীয় সচেতন লোকজন চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। প্রায় সময় এমন গণ জমায়েতের ঘটনা ঘটছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিসিবি ডিলার মেসার্স কাদের এন্টাপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আবদুল কাদের বলেন, ‘পণ্য বিক্রিতে ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য আমি ১২ জন লোক নিয়োগ করেছি। তারা চেষ্টা করেও ক্রেতাদের জমায়েত ঠেকাতে পারেনি। দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও কেউ শুনেনি। শেষে নিরুপায় হয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। তিনি পরে র‌্যাব পাঠিয়ে ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।’

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ উল্লাহ মারুফ  বলেন, ডিলারের ফোন পেয়ে দ্রুত র‌্যাবের একটি দল পাঠিয়ে গণ জমায়েত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ডিলারকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •