বিশেষ প্রতিবেদক:

মহামারী করোনা ভাইরাসে সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় সারোয়ার নামের এক ব্যক্তির নির্মাণ করা বাড়ির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালের কক্সবাজার সদর মডেল থানার একদল পুলিশ অভিযানে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পালিয়ে অভিযুক্ত সরওয়ার ও শ্রমিকেরা। তবে নির্মাণ কাজের সামগ্রী জব্দ করেছে। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে জানান, চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান মোঃ সরওয়ার নামে ওই ব্যক্তি কক্সবাজার শহরের বাহাছড়া থেকে বিয়ে করেছেন। শ^শুর বাড়ির প্রভাব দেখিয়ে লাইটহাউস এলাকায় পাহাড়ি জায়গা কিনে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে সমতল জায়গা বানিয়েছে। এরমধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সরকার সব ধরণের কাজ কর্ম বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। কিন্তু লকাডাউন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে সরওয়ার ওই জায়গাতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করে। ওই বাড়ি নির্মাণ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জনের বেশি শ্রমিক নিয়োগ করেছে। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে এভাবে বাইরের লোকজন এলাকায় এসে জমায়েত হওয়ায় আশেপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই সরওয়ারকে বাড়ি নির্মাণ করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু এতে ক্ষেপে গিয়ে উল্টো আশেপাশের লোকজনকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে এবং মিথ্যা মামলা মারধরের হুমকি দেয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, লকডাউন না মেনে বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তি ও শ্রমিকেরা। তবে নির্মাণ কাজের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। পুনরায় কাজ চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার পৌর লাইট হাউজ পাড়ার বাঘঘোনা এলাকায় আমির হোছন সওদাগর এর কাছ থেকে ওই খাস জায়গা কিনে বলে দাবি করে সরোয়ার। জায়গাটি পুরোটাই বিশাল উঁচু পাহাড় ছিলো। কিন্তু শ^শুরবাড়ির প্রভাব এবং কথিত কয়েকজন সাংবাদিকের প্রভাব কাটিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের ধরে পাহাড় কেটে বিলীন করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করছে সরওয়ার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •