বিশেষ প্রতিবেদক:
মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন চলছে পুরো দেশে। এতে মানুষের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় সারোয়ার নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিক এনে পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। লোকালয়ে গণ জমায়েত করে বাড়ি নির্মাণ করায় আশেপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এনিয়ে স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উল্টো তাদেরকে গালি-গালাজ এবং হামলা ও মিথ্যা মামলা হুমকি দিচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে জানান, চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান মোঃ সরওয়ার নামে ওই ব্যক্তি কক্সবাজার শহরের বাহাছড়া থেকে বিয়ে করেছেন। শ্বশুর বাড়ির প্রভাব দেখিয়ে লাইটহাউস এলাকায় পাহাড়ি জায়গা কিনে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে সমতল জায়গা বানিয়েছে। এরমধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সরকার সব ধরণের কাজ কর্ম বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। কিন্তু লকাডাউন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে সরওয়ার ওই জায়গাতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করে। ওই বাড়ি নির্মাণ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জনের বেশি শ্রমিক নিয়োগ করেছে। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে এভাবে বাইরের লোকজন এলাকায় এসে জমায়েত হওয়ায় আশেপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই সরওয়ারকে বাড়ি নির্মাণ করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু এতে ক্ষেপে গিয়ে উল্টো আশেপাশের লোকজনকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে এবং মিথ্যা মামলা মারধরের হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরোয়ার তার শ্বশুর বাড়ির এলাকার লোকজনের ভয় দেখাচ্ছে। এতে স্থানীয় সাধারণ জনগণ তার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে এলাকাকে করোনা মুক্ত রাখার তাগিদে স্থানীয় যুব সমাজ এগিয়ে আসে। স্থানীয় প্রতিবাদী যুবক সংবাদকর্মী সোহেল আরমান এবং সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিদওয়ান হাসান মেহেদী সহ বেশ কিছু লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানান এবং সরওয়ারকে ফোন করে কাজ বন্ধ রাখতে নিষেধ করে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সারোয়ার নামের এই ব্যক্তি। তিনি তাৎক্ষণিক বাহারছড়া থেকে লাইট হাউস গিয়ে নিষেধাজ্ঞাকে থোড়াই কেয়ার দম্ভ ভরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। শুধু তাই নয়; উল্টো ওই যুবকেরাসহ প্রতিবাদকারীদের অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করেন। এসময় সাংবাদিক এবং সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ সংগঠনের নাম ধরেও গালি দেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। একই সাথে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলা হামলা করবে বলে হুমকি দেয়।

স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার পৌর লাইট হাউজ পাড়ার বাঘঘোনা এলাকায় আমির হোছন সওদাগর এর কাছ থেকে ওই খাস জায়গা কিনে বলে দাবি করে সরোয়ার। জায়গাটি পুরোটাই বিশাল উঁচু পাহাড় ছিলো। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির প্রভাব এবং কথিত কয়েকজন সাংবাদিকের প্রভাব কাটিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের ধরে পাহাড় কেটে বিলীন করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করছে সরওয়ার। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের আহ্বান জানিয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে থাকা স্থানীয় লোকজন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মোঃ সরওয়ারের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •