বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া এলাকায় এক কিশোরীকে উত্যক্তের জেরে হামলার ঘটনায় সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে কিশোরীর মা ডলি আকতার এই এজাহার দায়ের করেন। এতে তিনজনকে এজাহার নামীয় আসামী করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শহরের ১নং ওর্য়াড সমিতিপাড়া এলাকার শামসুল আলমের ছেলে বখাটে মো. শাকিব দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মীর কাশেমের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে নানানভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। বিভিন্ন সময় বাড়ির সামনে গিয়ে এবং রাস্তায় আজেবাজে কথা বলে উত্যক্ত করে। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল বিকালে মীর কাশেমের বাড়ির সামনে গিয়ে তার মেয়েকে উত্যক্ত করে বখাটে শাকিব। এমনকি শীলতাহানীর চেষ্টাও করে। নিয়মিত এমন উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করলে মা ডলি আকতার ও মেয়েকে মারধর করে । বিষয়টি জেনে ডলির স্বামী মীর কাশেম এগিয়ে আসলে দ্রুত পালিয়ে যায় বখাটে শাকিব। পালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফের সংঘবদ্ধ হয়ে কিশোরীর বাড়িতে হামলায় চালায় বখাটে শাকিবের নেতৃত্ব সংঘবদ্ধ ৭ থেকে ৮ জন। এসময় তারা লোহার রড, লাঠি ও ধারালো ছোরা দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেন শামসুল আলমের ছেলে বখাটে শাকিব, হাবিব উল্লাহ ও মো. রাকিবসহ ৭ থেকে ৮ জন। এই ঘটনা আচঁ করতে পেরে দ্রুত এগিয়ে আসে ডলির বোন সিফা আকতার। এসময় তাকেও মারধর করে বখাটেরা। হামলাকারীরা এসময় ডলির বাড়ি ভাংচুর করে লুট করে একটি স্বর্ণের চেইনও । বখাটেদের হামলায় মারাত্মক জখম হন কিশোরীর মা ডলি আকতার, সিফা আকতার, মীর কাশেম ও কিশোরী। হামলা থেকে উদ্ধার করে ডলি আকতারকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান এলাকাবাসী। ঘটনায় অপরাপর আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নেন।
ডলি আকতার বলেন, বখাটে শাকিবের নেতৃত্বে আমাদের পরিবারে এভাবে হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল শাকিব। যার কারণে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে আমার মেয়ের। যখন স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল তখন বাসার সামনে গিয়ে উত্যক্ত করে। স্থানীয়ভাবে বিচার দিলেও তারা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বিচার মানছে না। এখন চিকিৎসা শেষ করে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে থানায় এজাহার দায়ের করেছি বখাটেদের বিরুদ্ধে। আমিসহ আমার মেয়েকে মারধর করার ঘটনায় প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •